প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নিরাপত্তা ও লেনদেনের সীমা বাড়ছে

শওকত আলী: প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং কার্যক্রম পৌঁছে দিতে চালু করা হয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিং। দিন দিন বাড়ছে এর পরিসর। যে কারণে প্রয়োজন পড়ছে নতুন নীতিমালার। ইতোমধ্যে নীতিমালার একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি লেনদেনের সীমাও পরিবর্তন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত হলে এজেন্ট-সাবএজেন্টের কাঠামোগত ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন হবে। নিরাপত্তা বাড়াতে আরও বেশি করে দেখে-শুনে নিয়োগ দিতে হবে এজেন্ট-সাবএজেন্ট। এদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা রয়েছে কি না, সেটাও আনা হবে এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে। তবে কত দিনের অভিজ্ঞতা লাগবে, তা এখনও ঠিক করা হয়নি। এতে করে নিরাপত্তা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে একজন গ্রাহক বর্তমানে সর্বোচ্চ দুবার লেনদেন করতে পারেন। প্রতিবার সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারেন। পরে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা এক লাখ বা তারও বেশি হতে পারে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি কমিটি কাজ করছে। গতকাল সোমবার কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের পরিসর বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এর নীতিমালা ঢেলে সাজানো হবে। এজন্য নতুন নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। শিগগির এ খসড়া নীতিমালাটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। এখানে ব্যাংকগুলোসহ যে কেউ তাদের মতামত দিতে পারবেন। গুরুত্বপূর্ণ মতামত পাওয়া গেলে সেগুলোও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের মতো এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমও সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে। তবে ব্যাংকগুলো যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে এ লেনদেন সময়সীমা আরও বাড়াতে পারবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো আপত্তি করবে না। এছাড়া বর্তমানে গ্রামে ও শহরে এজেন্ট নিয়োগের অনুপাত ২:১। অর্থাৎ গ্রামে দুজন এজেন্টের বিপরীতে শহরে একজন এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের অনুমোদন পায় ব্যাংকগুলো। তবে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা হয়ে গেলে পরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ক্ষেত্রবিশেষে কিছু অঞ্চল নির্ধারণ করে দেওয়া হবে, যেখানে ব্যাংকগুলো এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে বাধ্য থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় নীতিমালার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। জানা গেছে, আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে লেনদেনের বিষয়টি। প্রতিবার টাকা ওঠানোর ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকার লিমিট বৃদ্ধির বিষয়ে মতামত উঠে এসেছে। এটি ১ লাখ বা তারও বেশি করা হবে। নিরাপত্তার বিষয়টিকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এজন্য এজেন্ট নিয়োগে নতুন কিছু নিয়মনীতি যোগ করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হবে এজেন্টদের অভিজ্ঞতার বিষয়টি। ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অভিজ্ঞতা ও চলমান ব্যবসার পরিস্থিতিও গুরুত্ব পাবে এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভংকর সাহা শেয়ার বিজকে বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গাইডলাইন হালনাগাদের কাজ চলছে। এর একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। মূলত নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়টিকে সামনে রেখেই নীতিমালাটি পরিবর্তন করা হবে। এক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে এজেন্ট-সাবএজেন্টের কাঠামোয়। কারণ পরিসর বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নীতিমালা ঢেলে সাজাতে হচ্ছে। এছাড়া গাইডলাইনের বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যেই আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান মুখপাত্র।

জানা গেছে, ১৩টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর লাইসেন্স পেলেও কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছে ১০টি। এগুলো হলো: ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। যে তিনটি ব্যাংক এখনও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি সেগুলো হলো : ট্রাস্ট ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক ও মিডল্যান্ড ব্যাংক। এছাড়া বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ১০টি ব্যাংকের সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ এজেন্ট ও প্রায় ২ হাজার ৫০০ সাবএজেন্ট রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে ব্যাংকের শাখা নেই, সেখানে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্যই এজেন্ট ব্যাংকিং। ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিধিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি সার্কুলার জারি করে গ্রামের পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়।