সম্পাদকীয়

এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার ব্যবস্থা নিন

প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে এটিএম বুথের চল শুরু হওয়ায় ক্রমেই এর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটিএম বুথ থাকায় এখন চেক ব্যবহার করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংক থেকে কেউ টাকা তুলতে চান না। ফলে এ ব্যবস্থার গুরুত্ব বেড়েছে অনেক। এ অবস্থায় দীর্ঘ ছুটিতে বুথে টাকা না থাকলে বিপুলসংখ্যক মানুষের বড় ভোগান্তির কারণ হতে পারে। এমনকি অনেকের ঈদের আনন্দও মাটি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখা জরুরি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘ঈদে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ’ শিরোনামে একটি খবর ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, ‘এবার কোরবানির ঈদেও লম্বা ছুটি থাকছে ব্যাংকগুলোয়। ছুটিতে গ্রাহকরা যাতে চাহিদামতো টাকা তুলতে পারেন সে জন্য এটিএম বুথগুলোয় পর্যাপ্ত নগদ অর্থের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি এটিএম ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) নেটওয়ার্ক সার্বক্ষণিক সচল রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এটি সময়োপযোগী নির্দেশনা বটে। এর মাধ্যমে ঈদের ছুটিতে গ্রাহকরা ভোগান্তি ছাড়াই প্রয়োজনীয় টাকা তোলার সুযোগ পাবেন বলে প্রত্যাশা। তবে শুধু টাকা রাখায় নয়, বুথে নেটওয়ার্কসহ অন্য যেসব ঝুঁকি থাকার সম্ভাবনা আছে সেগুলোও দূর করতে হবে।
দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, চাকরিজীবীর সংখ্যা বৃদ্ধিসহ নানা কারণে ব্যাংকের চাহিদা বেড়েছে অনেক। লেনদেনে বিকল্প তেমন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা বেশি। এছাড়া ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড, এটিএম বুথ, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, মূলধনসহ নানা ধরনের সেবা ব্যাংকের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। এ অবস্থায় ব্যাংক সেবা নিরবচ্ছিন্ন হওয়াটাই প্রত্যাশিত। সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা সময়োপযোগী। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কেনাকাটা এবং উৎসবকালীন ব্যাংকের শাখা বন্ধ থাকায় গ্রাহকরা অধিকহারে এটিএম বুথ, পিওএস এবং ই-পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে লেনদেন সম্পন্ন করে।
এটিএম বুথে টাকা রাখার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক পাহারাদারদের সতর্কাবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সার্বক্ষণিক নেটওয়ার্ক চালু রাখা, বন্ধ বা অচল এটিএম বুথের সামনে নোটিস টানানোর ব্যবস্থা করা, কোনো ব্যাংকের সব এটিএম ও পিওএস সেবা অনিবার্য কারণে বন্ধ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকদের অবহিত করার নির্দেশনাও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নির্দেশনা ব্যাংকগুলো যথাযথভাবে পালন করবে বলে আমরা আশা করি। এতে ঈদের ছুটিতে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি লাঘব হবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..