শোবিজ

এটিএম শামসুজ্জামানের জন্মদিন আজ

শোবিজ ডেস্ক: কখনও মন্দ লোক, কখনও হাস্যরসের ভাণ্ডার নিয়ে উপস্থিত হন চিরচেনা মুখ এটিএম শামসুজ্জামান। আজ তার জন্মদিন। ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে অভিনেতা, পরিচালক, কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপকার ও গল্পকার। যখন যে চরিত্রে তিনি পর্দায় হাজির হয়েছেন, দর্শককে দিয়েছেন ভিন্ন স্বাদের বিনোদন। চলচ্চিত্রে গ্রাম্য মাতব্বর, নানা ধরনের দুষ্টলোক কিংবা গতানুগতিকের চেয়ে অন্য ধারার কমেডি চরিত্রে অভিনয় করে পেয়েছেন বেশ জনপ্রিয়তা। তার পুরো নাম আবু তোরাব মোহাম্মদ শামসুজ্জামান। প্রায় তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার সিনেমায় যাত্রা সহকারী পরিচালক হিসেবে। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এরপর বিভিন্ন পরিচালকের সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ করেন। তাদের মধ্যে খান আতাউর রহমান, কাজী জহির, সুভাষ দত্ত অন্যতম। ১৯৬৫ সালে সর্বপ্রথম সিনেমার জন্য চিত্রনাট্য লেখেন। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন। ১৯৬৫ সাল থেকে কৌতুকাভিনেতা হিসেবে সিনেমায় অভিনয় শুরু করেন। নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ সিনেমায় সর্বপ্রথম পান বিক্রেতা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এরপর ১৯৭৬ সালে প্রয়াত দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। এ সিনেমায় খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করেই অভিনয় জগতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ফলে পরিচালকরাও তাকে একের পর এক খলনায়ক চরিত্রে কাস্ট করতে থাকেন। এছাড়া খল চরিত্রে তার অভিনীত আরও কিছু উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলো অশিক্ষিত, গোলাপী এখন ট্রেনে, পদ্মা মেঘনা যমুনা, স্বপ্নের নায়ক প্রভৃতি। খলনায়কের পাশাপাশি কৌতুক অভিনেতা হিসেবেও বেশ সফলতা পান। বিশেষ করে জলছবি, যাদুর বাঁশি, রামের সুমতি, ম্যাডাম ফুলি, ভণ্ড, চুড়িওয়ালা, মন বসে না পড়ার টেবিলে’সহ বিভিন্ন সিনেমায় সফল অভিনয় করেন। এছাড়াও বেশ কিছু চলচ্চিত্রে তিনি পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনয় করেন। অনন্ত প্রেম, দোলনা, অচেনা, মোল্লা বাড়ির বউ, হাজার বছর ধরেসহ আরও অনেক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সিনেমার পাশাপাশি অসংখ্য নাটকেও অভিনয় করেন। ১৯৬৩ সালে টিভি নাটকে তার অভিষেক। প্রথম নাটক বিশিষ্ট টিভিব্যক্তিত্ব ও নাট্যকার আশকার ইবনে শাইখ পরিচালিত ‘লাঠিয়াল বাহিনী’। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক রঙের মানুষ, ভবের হাট, ঘর কুটুম, বউ চুরি, নোয়াশাল, শতবর্ষে দাদাজান প্রভৃতি। দায়ী কে, ম্যাডাম ফুলি, চুড়িওয়ালা, মন বসে না পড়ার টেবিলে ও চোরাবালি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’। অভিনয় ছাড়াও তিনি নিজের দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও নিজের জীবন কাহিনি নিয়ে একটি বই লিখেছেন। শিল্পকলা একাডেমি থেকে প্রকাশিতব্য এ বইয়ের নাম ‘শিল্প সংস্কৃতি ও আমার শিল্পী জীবন’। দেশের শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে লেখার পাশাপাশি এতে উঠে এসেছে তার শিল্পী জীবনের কথা। একটি শিক্ষিত পরিবারে জন্ম নিয়েও কীভাবে তাকে পরিবার থেকে বের হয়ে যেতে হয়েছে, কীভাবে তাকে শিল্পী হিসেবে পরিণত হতে হয়েছে তা তুলে ধরেছেন। বয়সজনিত কারণে বর্তমানে তার কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার ভোলাকোটে। আর ঢাকায় থাকেন সূত্রাপুর থানার দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার পগোজ স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহীর লোকনাথ হাই স্কুলে। ম্যাট্রিক পাস করেন ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট হাইস্কুল থেকে। তারপর জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন। তার বাবা নূরুজ্জামান ছিলেন নামকরা উকিল এবং মা নুরুন্নেছা বেগম। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার স্ত্রীর নাম রুনি জামান। তাদের তিন ছেলের মধ্যে দুজন জীবিত।

 

সর্বশেষ..