দিনের খবর পুঁজিবাজার

এটিবিতে লেনদেন হবে ওটিসির ২০ কোম্পানির

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই-সিএসই) আওতাভুক্ত ওভার দ্যা কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট শিগগিরই বন্ধ হতে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওটিসির আওতাধীন কোম্পানিগুলোকে এসএমই প্ল্যাটফর্মে নেয়া হবে। এক্ষেত্রে এসএমই প্ল্যাটফর্মে নেয়ার পর অবশিষ্ট সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) স্থানান্তর করা হবে।

বিশেষ করে ওটিসির যেসব কোম্পানির শেয়ার পাবলিক হোল্ডিং বেশি রয়েছে, সেগুলোকেই এটিবিতে রাখা হবে। কারণ, পাবলিক হোল্ডিং শেয়ার কোম্পানিটির মালিকদের কেনার সক্ষমতা নেই। তাই কোম্পানিগুলোর পাবলিক শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় এক্সিট প্ল্যানে না রেখে এটিবির জন্য রাখা হবে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় থাকা কোম্পানিগুলো হলো : বাংলা প্রসেস ইন্ডাস্ট্রিজ, ড্যান্ডি ডায়িং, ডায়নামিক টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ, মেটালেক্স করপোরেশন, মিতা টেক্সটাইলস, মডার্ন সিমেন্ট, মডার্ন ইন্ডাস্ট্রিজ, মোনা ফুড প্রোডাক্টস, পারফিউমস কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, পেট্রো সিনথেটিক্স প্রোডাক্টস, ফার্মাকো ইন্টারন্যাশনাল, কাসেম সিল্ক মিলস, কাসেম টেক্সটাইলস মিলস, রাসপিট ইনস বিডি, রোজ হ্যাভেন বলপেন, সালেহ কার্পেট মিলস, শেরপুর টেক্সটাইল মিলস, থেরাপিউটিক্স বাংলাদেশ, জাগো করপোরেশন ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ।

অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ের আদেশ দেখা যাবে। ওটিসি মার্কেটে শেয়ার বিক্রেতার আদেশ থাকলেও শেয়ার কেনার আদেশ থাকে না।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়- এমন কোম্পানিগুলোও বিএসইসির অনুমোদনসাপেক্ষে পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির মাধ্যমে এটিবিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। ফলে কোম্পানিগুলোর ১০ টাকার শেয়ার হস্তান্তরে স্ট্যাম্প ডিউটি ট্যাক্স দিতে হবে মাত্র ১০ পয়সা। আর এটিবির বাইরে ১০ টাকার শেয়ার হস্তান্তরে স্ট্যাম্প ডিউটি ট্যাক্স দিতে হয় আড়াই টাকা। ফলে এটিবিতে অন্তর্ভুক্ত হলে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর স্ট্যাম্প ডিউটি ট্যাক্স কম দিতে হবে। এতে ওই কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারের মূল মার্কেটে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আরো সহজ হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও এটিবিতে একটি প্ল্যাটফর্ম রাখা হবে যেখানে ওপেন অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ইউনিট বিক্রি করা যাবে। এটিবিতে ফান্ডগুলো তাদের ইউনিট স্যারেন্ডার করে সেটেলমেন্ট করতে পারবে। ফলে ওপেন অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ইউনিট বিক্রিতে সময়ক্ষেপণ কমবে। আর নন-লিস্টেট বন্ডও এটিবিতে লেনদেনের সুযোগ থাকবে, যার ফলে বন্ডগুলো কেনাবেচার ক্ষেত্র আরো প্রসারিত হবে।

সার্বিক দিক বিবেচনায় আগের ওটিসিকে আরো সক্ষম ও কার্যকর করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশে এটিবি বড় মার্কেট হবে বলে আশা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ওটিসি মার্কেটকে আরো যুগোপযোগী করতে কমিশন কাজ করছে জানিয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. রেজাউল করিম বলেন, ওটিসি মার্কেট বাতিল হয়ে যাবে। সেখানকার অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে স্মল ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড ও এক্সিট প্ল্যানের আওতায় তালিকাচ্যুত করা হবে।

২০০৯ সালে ডিএসই ও সিএসইতে ওটিসি মার্কেট চালু করা হয়। বিশেষ করে উৎপাদনে না থাকা, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা, কাগুজে শেয়ার ডিমেট না করা, আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়া, লভ্যাংশ প্রদান না করা এবং সিকিউরিটিজ আইন যথাযথভাবে পরিপালন না করা কোম্পানিগুলোকে মূল মার্কেট থেকে ওটিসিতে শাস্তিস্বরূপ স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে কোম্পানিটি বা উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শাস্তি দেয়ার উদ্দেশ্যে ওটিসি মার্কেটে পাঠানো হলেও কার্যত শাস্তি পাচ্ছেন সেই কোম্পানির সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

দুই শেয়ারবাজারের ওটিসি মার্কেটে ১০৮টি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইতে ৬১টি ও সিএসইতে ৪৭টি। এসব কোম্পানির সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ আটকে আছে। শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা কোনো ধরনের লভ্যাংশও পাচ্ছেন না। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা ওই শেয়ারগুলো বিক্রি করতে পারছেন না। এখন দীর্ঘদিন পর গলার কাঁটা সরতে যাচ্ছে তাদের। ওটিসি বাতিলের সিদ্ধান্তে বিএসইসিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..