সম্পাদকীয়

এডিআর সীমার শর্ত শিথিল অগ্রহণযোগ্য

ঋণের চেয়ে আমানত প্রবৃদ্ধি কমলে মানি মার্কেটে তারল্য সংকট বাড়ে। বেশিরভাগ সময় ব্যাংক খাত বিশেষ করে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো আমানতের তুলনায় ঋণ বেড়ে যাওয়ায় তারল্য সংকটে পড়ে।
আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আগ্রাসী ঋণে লাগাম টানতে ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) কমিয়ে নতুন সীমা নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে দেড় শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এক শতাংশ কমানো হয়। সাধারণ ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ৮৫ টাকা ঋণ বিতরণ করতে পারত। নতুন সীমা অনুযায়ী, ঋণ বিতরণ করতে পারবে ৮৩ টাকা ৫০ পয়সা। ইসলামী ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করতে পারবে ৮৯ টাকা। আগে ইসলামী ব্যাংকগুলো ৯০ টাকা ঋণ দিতে পারত। গত বছরের জানুয়ারিতে যেসব ব্যাংকের এডিআর সীমার ওপরে ছিল, ধীরে ধীরে তা নামিয়ে আনতে বলা হয়। এক্ষেত্রে প্রথমে সময় দেওয়া হয় গত বছরের জুন পর্যন্ত। দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে তা বর্তমান (সেপ্টেম্বর) মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। চলতি মাস শেষে যেসব ব্যাংকের এডিআর সীমার ওপরে থাকবে, সেগুলোকে জরিমানা দিতে হবে। জরিমানা এড়াতে প্রত্যেক ব্যাংককে আলাদাভাবে সময় চেয়ে নিতে হবে। ঢালাওভাবে সময় বাড়ানো হবে না, এমন সিদ্ধান্ত ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।
অন্যদিকে এডিআর সীমার কারণে বিনিয়োগ কমে যাবে-এমন যুক্তি দেখিয়ে আগের এডিআর বহাল চেয়ে দেনদরবার করে আসছিলেন ব্যাংকমালিকরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনড় অবস্থানে সাধারণ মানুষ আশা করেছিল, মানি মার্কেটে তারল্য সংকট বাড়বে না। কিন্তু গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘এডিআর সমন্বয়: বাগে আনতে না পেরে সুকৌশলে পেছাল বাংলাদেশ ব্যাংক’ শীর্ষক প্রতিবেদন সবাইকে হতাশ করবে বলেই ধারণা। কারণ এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নমনীয়তাই প্রতিভাত হচ্ছে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি তলানিতে নেমে যাওয়া এবং তারল্য সংকটের কারণে শেয়ারবাজারে দরপতন ঠেকানোর কথা বলে এডিআর সীমা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, এডিআর সীমা ছুঁই ছুঁই করায় ঋণ কার্যক্রম ছোট করে এনেছে অনেক ব্যাংক। আবার শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর মূলধনের ২৫ শতাংশ বিনিয়োগ কমে নেমে এসেছে গড়ে ১৪ শতাংশে। এ কারণেই যে ব্যাংকগুলোর কাছে তহবিল আছে, সেগুলোকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে উৎসাহী করতে এডিআর সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এডিআর বাড়ানো নিয়ে ব্যাংকগুলোর যত আগ্রহ, সে তুলনায় খেলাপি ঋণ আদায়ে তেমন কার্যক্রম নেই। খেলাপি ঋণ আদায় ও অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করে এডিআর বাড়ানো যেত। এডিআর বৃদ্ধির সুফল যাতে শেয়ারবাজারে পড়ে, সেজন্য নতুন নির্দেশনা কার্যকরে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কঠোর হতে হবে।

সর্বশেষ..