প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

এডিবির প্রতিবেদন: ২০৩০ সালের মধ্যে অবকাঠামো খাতে এশিয়ায় বিনিয়োগ দরকার ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও জলবায়ু পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়ার দেশগুলোয় অবকাঠামো খাতে ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ দরকার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ‘মিটিং এশিয়া’স ইনফ্রাসট্রাকচার নিডস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর এএফপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বেশ কিছু গরিব দেশের পরিবহন, টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুৎ, পানি ও স্যানিটেশন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত।

সাম্প্রতিক দশকে অবকাঠামো খাতে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও এশিয়ার ৪০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। ৩০০ মিলিয়ন মানুষ নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত এবং প্রায় এক দশমিক পাঁচ বিলিয়নের মৌলিক সেনিটেশনের ঘাটতি রয়েছে।

প্রতিবেদনে এডিবি প্রেসিডেন্ট তাকিহিকো নাকাও বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান সরবরাহের তুলনায় আরও বেশি অবকাঠামো চাহিদা রয়েছে। শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর অবকাঠামো খাতে নতুনত্ব আনা উচিত।

প্রতিবেদনমতে, ২০১৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর এ অঞ্চলে এক দশমিক সাত ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ দরকার।

বর্তমানে বিনিয়োগের ৮৮১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এটি প্রায় দিগুণ।

ম্যানিলাভিত্তিক এ ঋণদাতা সংস্থা জানায়, প্রতি বছর এশিয়া অঞ্চলের বিদ্যুৎ খাতের জন্য বিনিয়োগ দরকার ১৪ দশমিক সাত ট্রিলিয়ন ডলার। পরিবহনে আট দশমিক চার ট্রিলিয়ন ডলার ও টেলিকম খাতে দুই দশমিক তিন ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা উচিত। এছাড়া পানি ও স্যানিটেশন খাতে প্রতি বছর ৮০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা উচিত বলে মনে করে এডিবি।

এ চাহিদার প্রায় ৬১ শতাংশই পূর্ব এশিয়ার। এ অঞ্চলে পরিবহন, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ খাতে বেশি বিনিয়োগ দরকার।

এর আগে ২০০৯ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এডিবি জানিয়েছিল, ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এশিয়ার অবকাঠামো খাতে আট ট্রিলিয়ন বিনিয়োগ দরকার।

এ অঞ্চলের ২৫টি প্রধান দেশের ৯৬ শতাংশ মানুষ এ প্রতিবেদনের আওতায় এসেছে। বর্তমানে এ অঞ্চলে অবকাঠামো খাতে বার্ষিক বিনিয়োগ হয় ৮৮১ বিলিয়ন ডলার, যা চাহিদার অর্ধেক। চাহিদার তুলনায় বিনিয়োগের পার্থক্যে ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ওই ২৫ দেশের একই সময়ের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) দুই দশমিক পাঁচ শতাংশের সমান। চীন বাদে বাকি ২৪টি দেশের অবকাঠামো খাতের চাহিদা মেটাতে দেশগুলোতে অর্জিত জিডিপির পাঁচ শতাংশ বিনিয়োগ করতে হবে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনে পিছিয়ে রয়েছে।