এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধে ব্যবস্থা নিন

দেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত আরও ৮১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার রাত ৮টা থেকে শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত) তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮০। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে তৈরি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে। এতে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৩৩৬ জন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চলতি মাসে সারাদেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭৬৭। আর চলতি বছরে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১ হাজার ১৩৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তদের বেশিরভাগই রাজধানীর বাসিন্দা।

ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হওয়ার পর ২০১৯ সালে আক্রান্ত ছিল সর্বাধিক। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩০০ জন প্রাণ হারান। আর সরকারি হিসাবে এ সংখ্যা ১৭৯। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য, ওই বছর সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন।

সাধারণত এপ্রিল-অক্টোবর কালপর্বকে ডেঙ্গুর মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। তবে জুন-সেপ্টেম্বর এই চার মাস মূল মৌসুম। কয়েক দিনের থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টি এডিস মশার বংশবিস্তারে প্রভাব ফেলছে। কভিড আর ডেঙ্গুর উপসর্গ কাছাকাছি হওয়ায় জ্বর হলে বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যান্য বছর ডেঙ্গু ভাইরাসের ডেন-১ বা ডেন-২ ধরনের সংক্রমণ দেখা গেছে। কিন্তু এবার এই ভাইরাসের ডেন-৩ ও ডেন-৪ ধরনের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। ফলে জটিলতাও বেশি হচ্ছে। ডেঙ্গুর সব উপসর্গ-লক্ষণ সম্পর্কে কিছু ধারণা রাখলে প্রতিকারে ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে। যেকোনো জ্বরের রোগীরই ডেঙ্গু অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করাতে হবে। জ্বর পাঁচ দিনের বেশি থাকলে ডেঙ্গু অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে আনুষঙ্গিক অন্যান্য পরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষার পাশাপাশি করোনার পরীক্ষাও করাতে হবে। কারণ, কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে এখন দুটি সংক্রমণ একসঙ্গেই হতে দেখা যাচ্ছে।

মশা নিধনে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন প্রায়ই চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে। যদিও তা অপ্রতুল। কর্তৃপক্ষের দিকে চেয়ে না থেকে নাগরিক দায়িত্ব পালনেও যত্নবান হতে হবে। মশা নিধনের চেষ্টার সঙ্গে মশার উৎপত্তিস্থল, বংশবিস্তার বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এখন কমবেশি সবাই জানেন মশার আবাস ও বংশবৃদ্ধি সম্পর্কে। সবাইকে নিজ বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও যেন স্বচ্ছ পানি না জমে থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত বাসার আশপাশে স্প্রে করতে হবে। মশার কামড় থেকে সুক্ষায় যথাসম্ভব সাদা বা হালকা রঙের ফুলহাতা পোশাক পরতে হবে। হাতে-পায়ে মশা নিরোধক মলম ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়িতে নেট ও মশারি ব্যবহার করতে হবে।

প্রত্যেক এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা গেলে সুফল মিলবে। সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়।


সর্বশেষ..