সম্পাদকীয়

এডিস মশা নিধনে ব্যবস্থা নিন

কয়েক বছর ধরে রাজধানীতে মশার উপদ্রবে জনজীবন অতিষ্ঠ। মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশন বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামলেও নগরবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রশ্ন উঠেছে, মশা নির্মূলে দুই সিটি করপোরেশন ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছে কি না।

গতকাল শেয়ার বিজে ‘পোস্ট মৌসুম এডিস মশার সার্ভে রিপোর্ট, ২০২০’ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, এডিস মশার ঘনত্ব বেশি গুলশান, বনানী, নিকেতন ও পুরান ঢাকার রাধিকা মোহন বসাক লেন, আওলাদ হোসেন লেন, কোর্ট হাউস স্ট্রিট, শাঁখারি বাজার ও রায়সাহেব বাজার এলাকায়। এসব এলাকায় সর্বোচ্চ বিআই ১৬ দশমিক ৬৭ পাওয়া গেছে।

রাজধানীতে মশার প্রকোপ এত বেশি যে, ভবনের ছয় তলায় বসবাসকারীরাও মশার যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। অভিজাত এলাকা গুলশানেও মশার সাংঘাতিক উপদ্রব প্রত্যাশিত নয়। এলাকার লোকজন স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতন। সিটি করপোরেশন এলাকায় বিকট আওয়াজে মশার ওষুধ ছিটানো হয়। কিন্তু মশার উপদ্রব ঠেকাতে সে কাজ যথেষ্ট নয়। দিনের বেলায়ও কয়েল, স্প্রে ব্যবহার বা মশারি না টানিয়ে ঘুমানো বা বিশ্রাম নেয়া যায় না। নগরবাসীকে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

গুলশান-বনানী কৃত্রিম হ্রদ দিয়ে ঘেরা। এসব হ্রদ নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। অভিজাত এলাকার বাসিন্দারা সব দিক থেকেই সচেতন। সেখানে কেন মশার ঘনত্ব বেশি, তা বের করতে হবে।

ডিএনসিসির দাবি, গত বছর ‘চিরুনি অভিযান’ পরিচালনা করায় ডেঙ্গু জ্বর নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। ওই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। মশক নিধন কার্যক্রমে ব্যবহƒত ফগার মেশিন, পালস ফগমেশিন, হার্টসন হস্তচালিত মেশিন, প্লাস্টিক হস্তচালিত মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্র কেনা হয়েছে। এবার বলার সুযোগ নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। রাজধানীতে সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য সেবা সংস্থার অন্তত ৩০০ কিলোমিটার কার্পেটিং ড্রেন রয়েছে। এসব  নর্দমা উš§ুক্ত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন সব খাল-জলাশয় করপোরেশনের আয়ত্তে। এগুলোকে প্রবহমান করা গেলে মশার নিরাপদ আবাস সীমিত হয়ে আসবে।

ভেজাল ওষুধ সরবরাহের দায়ে কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান যেন দায়িত্ব না পায়। সর্বনি¤œ দরদাতার কাছ থেকে মানহীন ওষুধ না কিনে সিটি করপোরেশন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ওষুধ আমদানি করতে পারে। এর আগে কালো তালিকাভুক্ত জেনেও একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মশার ওষুধ কেনা হয়। সমালোচনা হওয়ার পর তা বন্ধ করা হয়। উচিত হবে যাচাই-বাছাই করে মানসম্পন্ন ওষুধ কেনা। কোনো দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা যেন মশার ওষুধ কেনার দায়িত্ব না পান। ‘সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ গড়ে তুলতে হবে। বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। প্রচারসর্বস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করলে সেখান থেকে তেমন সুফল মিলবে না। বছরজুড়েই মশা নিধনের কাজ করতে হবে। মাঠপর্যায়ে মশা মারার কাজ নিয়মিত তদারকি করা দরকার। নিয়ম মেনে যথাস্থানে মানসম্পন্ন কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে কি না, সেটা তদারকি করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..