দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

এফআর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতিতে তাসভীর গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক: নকশা জালিয়াতির মামলায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বনানীর এফআর টাওয়ারের অন্যতম মালিক কাসেম ড্রাইসেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসভীর উল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বিকাল পৌনে ৪টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মো. আবুবকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে দুদকের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। ‘গত ২৫ জুন দায়ের করা একটি মামলায় তাসভীরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে’ এ কথা বলেন দুদক কর্মকর্তা প্রণব। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের করা অন্য একটি মামলায় এর আগেও গ্রেফতার হয়ে তাসভীর উল ইসলাম জামিনে ছিলেন।
তথ্যমতে, নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ভবনটিতে কয়েকটি তলা বাড়ানোর অভিযোগে গত ২৫ জুন তাসভীরসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছিলেন দুদক কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক। মামলার আসামির তালিকায় তাসভীর ছাড়াও এফআর টাওয়ারের মালিক এস এম এইচ আই ফারুক ও রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলের নাম রয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি তাসভীর আর্থিক প্রতিষ্ঠান জিএসপি ফাইন্যান্স লিমিটেড থেকে পাঁচ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে অবৈধভাবে এফ আর টাওয়ারের ২১, ২২ ও ২৩ তলা কেনেন।
একইসঙ্গে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান কে এ এম হারুন, সাবেক সদস্য মো. রেজাউল করিম তরফদার, সাবেক পরিচালক মো. শামসুল আলম, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক মো. মোফাজ্জল হোসেন, সহকারী পরিচালক শাহ মো. সদরুল আলম, সাবেক প্রধান ইমারত পরিদর্শক মো. মাহবুব হোসেন সরকার, সাবেক ইমারত পরিদর্শক মো. আওরঙ্গজেব সিদ্দিকি, সহকারী অথোরাইজড অফিসার মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক জাহানারা বেগম, সহকারী পরিচালক মেহেদউজ্জামান, নিম্নমান সহকারী মুহাম্মদ মজিবুর রহমান মোল্লা, অফিস সহকারী মো. এনামুল হক, বিসিএসআইআরের সদস্য (অর্থ) মুহাম্মদ শওকত আলী, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব আ ই ম গোলাম কিবরিয়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবদুল্লাহ আল বাকি, গণপূর্ত অধিদফতরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ নাজমুল হুদা ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামছুর রহমানকেও ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
দুদকের অন্য একটি মামলায় এফআর টাওয়ারের ১৫ তলা পর্যন্ত নির্মাণের ক্ষেত্রে ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন ও নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮ তলা পর্যন্ত বাড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই মামলায় এফআর টাওয়ারের মালিক ফারুক, রূপায়ণের মুকুল, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ূন খাদেম, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান ও সাবেক অথরাইজড অফিসার সৈয়দ মকবুল আহমেদকে আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জন নিহত হওয়ার পর ওই ভবন নির্মাণে নানা অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে ওই ভবনের জমির মূল মালিক প্রকৌশলী এসএমএইচআই ফারুক। অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভবনটি নির্মাণ করে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড। সে কারণে সংক্ষেপে ভবনের নাম হয় ‘এফআর টাওয়ার’। অগ্নিকাণ্ডের পর সরকারের বিভিন্ন সংস্থা চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি নকশা অনুমোদনে বিধি লঙ্ঘন এবং নির্মাণের ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দেয়।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..