প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

এফডিএ অনুমোদন পেলো বেক্সিমকোর মেটফরমিন হাইড্রোক্লোরাইড ট্যাবলেট

নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) কাছ থেকে মেটফরমিন হাইড্রোক্লোরাইড এক্সটেনডেড রিলিজ ট্যাবলেটের (৫০০ ও ৭৫০ মিলিগ্রাম) অনুমোদন পেয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

এই ওষুধ ব্রিস্টল মিয়ার্স স্কুইবের গ্লুকোফেজ এক্সআর ট্যাবলেট (৫০০ ও ৭৫০ মি.গ্রা.) জেনেরিকের সমতুল্য, যা ডায়াবেটিস টাইপ টু মেলিটাস নিয়ন্ত্রণে ডায়েট এবং ব্যায়ামের সঙ্গে ভালো কাজ করে।

আইএমএসের তথ্যমতে, নভেম্বর ২০১৫ থেকে অক্টোবর ২০১৬ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে গ্লুকোফেজ এক্সআর ট্যাবলেটের মোট বাজার ছিল ৯১৮ মিলিয়ন ইউএস ডলারের। ২০১৫ সালের জুনে ওরাল সলিড ডোজেস ফ্যাসিলিটর অনুমোদনের পর এটা বেক্সিমকোর তৃতীয় এএনডিএ বা জেনেরিক ওষুধ, যা ইউএস এফডিএ’র অনুমোদন পেলো। এই অনুমোদন সম্পর্কে বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান বলেন, ইউএস এফডিএ’র তৃতীয় পণ্য অনুমোদন লাভ করার মাধ্যমে আমাদের কর্মদক্ষতা এবং বিশেষ করে এক্সটেনডেড রিলিজ ফরমুলেশনের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান আবারও প্রমাণিত হয়েছে। আগামী বছরের মাঝামাঝি এই পণ্য আমরা বাজারজাত শুরু করবো। ২০১৫ সালের জুনে বেক্সিমকো ফার্মা দেশের প্রথম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউএস এফডিএ’র অনুমোদন লাভ করে। বেক্সিমকো ফার্মাই প্রথম দেশি কোম্পানি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ড্রাগ রফতানি শুরু করে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে কোম্পানিটি ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত ১৮ মাসে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস ঘোষণা করেছে। এ সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে সাত টাকা ৬৩ পয়সা। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৫৯ টাকা ৭০ পয়সা। ২০১৪ সালের সমাপ্ত হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে, যা আগের বছরের সমান। ওই বছর ইপিএস হয়েছিল ৪ টাকা ১৫ পয়সা এবং এনএভি ছিল ৫৬ টাকা ৮৭ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে ৪ টাকা ১ পয়সা ও ৫৬ টাকা ৪৫ পয়সা। কোম্পানিটি কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ১৫২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যা আগের বছর ছিল ১৪০ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ৯১০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৩৮৬ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ এক হাজার ১৭৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস হয়েছিল ১ টাকা ৩৩ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ১ টাকা ৯ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে ২৪ পয়সা। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এনএভি ছিল ৬০ টাকা ৯৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৫৬ টাকা ৮৪ পয়সা।

কোম্পানিটির মোট ৩৮ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ২৩৪টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ২১ দশমিক শূন্য চার শতাংশ শেয়ার।