শেষ পাতা

এফসি হিসাবে ডিভিডেন্ড নিতে পারবেন বিদেশিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা বা কোম্পানি ঘোষিত ডিভিডেন্ড এফসি হিসাবে নিতে পারবেন। এতদিন এ হিসাবে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ছিল। গতকাল এমন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এফডিআইয়ের ক্ষেত্রে এতদিন ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীর নিজ দেশে ফেরত নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এ অর্থ পুনরায় বিনিয়োগ করতে হলে নিজ দেশ থেকে নেওয়ার পরে বাংলাদেশে আনতে হতো। তখন বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে এটি আসত। এতে করে মুদা বিনিময়ে (টাকা থেকে ডলার ও পুনরায় ডলার থেকে টাকায়) খরচ হতো। এখন এ খরচ হবে না। বিনিয়োগকারীরা ইচ্ছে করলে এফসি হিসাব থেকে পুনরায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে বিনিয়োগকারীরা ইচ্ছে করলে বাংলাদেশে থাকা এফসি (ফরেন কারেন্সি) হিসাবে মুনাফার অর্থ নিতে পারবেন। এতে তাদের অর্থ প্রাপ্তি ও ব্যবহারে সহজ হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ হিসাব থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী নিজ দেশে বা বাংলাদেশে অর্থ খরচ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশি বিনিয়োগকারী, বিদেশে অবস্থানকারী বিনিয়োগকারী ও নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিদের বাংলাদেশে থাকা এফসি হিসাবে ডিভিডেন্ডের অর্থ নিতে পারবেন। দেশে ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত ডিভিডেন্ডও নিতে পারবেন এ ব্যাংক হিসাবে। পূর্বে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হবেন। এফসি হিসাব পরিচালনা সহজ। এ হিসাব থেকে স্থানীয় মুদ্রা টাকায় লেনদেন করা যায়।

বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করতে সম্প্রতি আরও একটি বিধান সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশে থাকা কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে নিজস্ব মালিকানাধীন শেয়ার বিক্রি করে তা ফেরত নিয়ে যেতে পারবেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। নিয়ম সংক্রান্ত কারণে বা আদালতের আদেশে অথবা স্বেচ্ছায় কোম্পানি বন্ধ হলে অর্থ নেওয়া যাবে।

এতে বলা হয়, আদালত কোনো কোম্পানি বন্ধের নির্দেশ দিলে অর্থ নেওয়ার জন্য সেই আদেশের কপিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করতে হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত বছর বাংলাদেশে এফডিআই (ফরেইন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট) এসেছে দুই দশমিক ৮৭৪ বিলিয়ন (প্রায় ২৮৭ কোটি) ডলার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..