দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

এবারও উত্তরাঞ্চলে লো-ভোল্টেজ সংকট থাকবে

নেসকো-ইপি টকস

নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তরাঞ্চলের লো-ভোল্টেজ নিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। বোর্ড চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন দাবি করেছেন, সৈয়দপুরে নির্মাণাধীন এনার্জিপ্যাকের ১১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটি এপ্রিলের শেষে বা মে মাসের প্রথমে উৎপাদনে এলে এ সংকট কিছুটা সহনীয় হতে পারে। গতকাল এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড আয়োজিত ‘কোয়ালিটি পাওয়ার সাপ্লাই টু নর্দান সিটিজ: চ্যালেঞ্জ ফর নেসকো’ শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বিশেষ অতিথি ছিলেন নেসকোর চেয়ারম্যান ও বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব একেএম হুমায়ুন কবির।

আলোচকরা বলেন, উত্তরের জেলা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎ সমস্যাটি প্রকট হবে। আগামী গ্রীষ্ম, রমজান ও সেচ মৌসুমে সংকট সামনে রেখে বড়পুকুরিয়ায় ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট চালু রাখতে কয়লার মজুত বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে এ সময়কালে প্রতিদিন ১৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন পাওয়া যাচ্ছে ৭০০ এমএমসিএফডি। ফলে সিরাজগঞ্জের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও পুরোটা উৎপাদনে রাখা যাবে না।

মেয়র বলেন, সন্দেহ নেই বিদ্যুৎ সরবরাহে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলেও অনেক ভালো হয়েছে। কিন্তু এখনও শতভাগ নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন হয়নি। সব ঠিক থাকলে ২০২২ সালে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হতে যাচ্ছে। তার আগে উত্তরাঞ্চলের সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে নিতে হবে পিজিসিবির প্রতি আহŸান জানান।

হুমায়ুন কবির বলেন, নেসকো কার্যত উত্তরের শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়। কিন্তু ২৭ হাজার সেচ গ্রাহক পাম্প চালানোর জন্য আমাদের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আগামী গ্রীষ্মে সেচ ও রমজান বিবেচনায় রেখে নেসকোকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে। গ্রাহকদের বিল দেয়ার ঝামেলা মেটানোর জন্য সবাইকে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বেলায়েত হোসেন বলেন, উত্তরাঞ্চলের লো-ভোল্টেজ সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আরও দুই-তিন বছর সময় লাগবে। রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র, ভারতের আদানীর ঝাড়খণ্ড বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আসতে শুরু করবে, জিএমআইয়ের সঙ্গে চুক্তির আওতায় নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আসবে। এর আগে পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের জন্য শতভাগ সুসংবাদ দেয়া যাবে না।

জাকিরুল ইসলাম দাবি করেন, কয়েক বছরের মধ্যে স্মার্ট মিটার স্থাপন ও পুরো ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ হলে বিদ্যুতের সিস্টেমলস তিন শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এতে কোম্পানির বার্ষিক কমপক্ষে ৮৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে বর্তমানে নেসকোর ৪০ শতাংশ গ্রাহক অনলাইনে বিল পরিশোধ করছে। এটাকে পুরো পেপারলেস করা সম্ভব হলে বার্ষিক আরও ৫৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। তবে কোয়ালিটি (গুণগত) বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়ার জন্য পিজিসিবির কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

ইয়াকুব ইলাহী চৌধুরী দাবি করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৪০০ কেভি ক্ষমতার দুটি গ্রিড রহনপুর ও রূপপুর থেকে বগুড়ায় আসবে। আবার বগুড়া থেকে ২৩০ ও ১৩২ কেভি গ্রিড বিভিন্ন জেলায় যাবে। পুরো উত্তরাঞ্চলে ২৪টি গ্রিড সাবস্টেশন স্থাপন করা হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..