প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

এবার আইএলওর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়ি জব্দ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে এবার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ঊর্ধ্বতন এক কর্মকতার গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। গতকাল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর আইএলওর সিনিয়র স্কিল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট কিশোর কুমার সিংয়ের ওই গাড়িটি জব্দ করে।

অধিদফতর জানায়, গাড়িটি শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা। বর্তমানে আইএলওতে কর্মরত কিশোর কুমার ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিতে (ইউএনডিপি) কর্মরত থাকাকালে এটি নিয়েছিলেন। পরে তিনি আইএলওতে যোগ দেন। ওই কর্মকর্তা ইউএনডিপি ত্যাগ করার সময় পাসবই ও গাড়িটি কাস্টমসের কাছে সমর্পণ করার কথা থাকলেও তা তিনি করেননি। এছাড়া আইএলও থেকে নতুন পাসবই গ্রহণ করার পরও গাড়িটি তার মেয়াদোত্তীর্ণ পুরোনো পাসবইয়েই রেখেছিলেন। অপরদিকে তার গাড়িটির ২০১২ সালে ফিটনেস মেয়াদ শেষ হলেও পরে ফিটনেস সনদ নেওয়া হয়নি।

ফিটনেস ও কাগজপত্র ঠিক না থাকলেও গাড়িটি চলেছে হলুদ রেজিস্ট্রেশন প্লেটে (এজস-০৪৬)। এর মধ্যে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃক বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ গাড়ি আটক শুরু হলে গত অক্টোবরে কিশোর কুমার এনবিআরের কাছে গাড়িটির নতুন পাসবইয়ে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করেন, যা আইন পরিপন্থী।

এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, ওই কর্মকতা শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার করে আইন ভঙ্গ করেছেন। ইতোমধ্যে গাড়িটি আমাদের হাতে এসেছে। এখন তদন্ত করা হবে। এছাড়া তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন। ফলে শুনানির পর তার বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা গাড়ির অপব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। গত ২৯ নভেম্বর উত্তরার একটি বাড়ি থেকে আরেক বিলাসবহুল গাড়ি আটক করা হয়। গাড়িটিও শুল্কমুক্ত সুবিধায় এনে অবৈধভাবে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। গাড়িটি বিক্রি করে দেশ ছেড়েছেন ইউএনডিপির সাবেক কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন প্রিসনার। ইতোমধ্যে তাকে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরে তলব করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শুল্ক গোয়েন্দার পক্ষ থেকে একটি চিঠি প্রিসনারের হাতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডি, ব্রিটিশ সাহায্য সংস্থা ডিএফআইডি, জাপানের সাহায্য সংস্থা জাইকা, ইউনিসেফের মতো প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদে কাজ করে চলে যাওয়া অনেক কর্মকর্তাই এ ধরনের অপরাধের তালিকায় রয়েছেন। বাংলাদেশে অবস্থান শেষে তারা গাড়ি আর ফেরত নিয়ে যাননি। এমন গাড়ির সংখ্যা ৪০০’র মতো। এসব দামি গাড়ির বেশিরভাগই স্থানীয় বাংলাদেশিদের কাছে বিক্রি করে চলে গেছেন তারা। এতে রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, শুল্কমুক্ত সুবিধার গাড়ির সবচেয়ে বেশি অপব্যবহার করেছেন বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা। এ প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করতে আসা ৫৩ বিদেশি কর্মকর্তা মেয়াদ শেষে চলে গেছেন। তাদের গাড়িগুলোর কোনো খোঁজ নেই। আর বিশ্বব্যাংকের পরই ইউএনডিপির কর্মকর্তার সংখ্যা বেশি। এ প্রতিষ্ঠানটির ৪৪ কর্মকর্তা এমন সুযোগ নিয়েছেন। এরপর জাইকার অবস্থান। তালিকায় আছেন জাইকার ৪১ কর্মকর্তা। সব মিলিয়ে ২৫টি উন্নয়ন-সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এমন ৩৯৫ কর্মকর্তাকে এনবিআর চিহ্নিত করেছে।