প্রথম পাতা

এবার ওয়ান ব্যাংকে খেলাপি হলেন ইসা বাদশা

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ না করে বছর দুয়েক আগে গোপনে দেশ ছাড়েন ইসা বাদশা মহসিন, যিনি চট্টগ্রামভিত্তিক বাদশা শিল্পগ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ গ্রুপের জাহাজ ভাঙা ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে আগেই ঋণখেলাপি হন ইস্টার্ন, শাহ্জালাল ও মেঘনা ব্যাংকে। এ কারণে হারিয়েছেন মিডল্যান্ড ব্যাংকের পরিচালকের পদ। এবার তিনি খেলাপি হলেন ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডে।
ইসা বাদশার কাছে ব্যাংকটির চট্টগ্রাম জুবলি রোড শাখায় খেলাপি পাওনার পরিমাণ প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা। আর এ ঋণ আদায়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিলামে তুলছে বন্ধকিতে থাকা সম্পত্তিগুলো।
সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ ইসা বাদশার বাবা বাকলিয়ার বাসিন্দা মরহুম বাদশা মিয়া সওদাগরের উদ্যোগে ‘তালা’ মার্কা সাবান ব্যবসার মাধ্যমে এ গ্রুপের যাত্রা। পরে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় আসেন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা। সময়ের সঙ্গে আজান লিমিটেড, এমএম এন্টারপ্রাইজ, ঝুমা এন্টারপ্রাইজ, বাদশা অয়েল মিলস অ্যান্ড সোপস ফ্যাক্টরি এবং মুসা অ্যান্ড ইসা ব্রাদার্স প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাদশা গ্রুপ গড়ে তোলেন।
ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের চট্টগ্রাম জুবলি রোড শাখা থেকে ঋণ নেয় এ গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠান ঝুমা এন্টারপ্রাইজ ও মুসা অ্যান্ড ইসা ব্রাদার্সের নামে নেওয়া ঋণ। গত ২৫ সেপ্টেম্বর এ ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়। প্রতিষ্ঠান দুটির কাছে ব্যাংকটির সুদাসলে পাওনা ১৬৭ কোটি ৮৪ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৯ টাকা। আর খেলাপি পাওনা আদায়ে মামলা করেছে ব্যাংকটি। এছাড়া বন্ধকিতে থাকা সম্পত্তি নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে।
ব্যাংকটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের বিপরীতে বন্ধকিতে থাকা চট্টগ্রামের পটিয়ায় চার দশমিক ২৫ একর এবং সীতাকুণ্ডে ৭৫ ডিসিমেল জমি আগামী ২৯ অক্টোবর নিলামে বিক্রি করা হবে।
পাওনাদার ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেন, ইসা বাদশা ব্যাংকের টাকায় ব্যাংক পরিচালক হয়েছেন। আর জাহাজ আমদানির আড়ালে কানাডায় অর্থ পাচার করেন। এখন কানাডায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। দুবছরেরও বেশি সময় তিনি কানাডায় অবস্থান করছেন। ব্যবসা পরিচালনা ও পাওনা পরিশোধে দেশে ফিরে আসবেন কি না, সেটি নিশ্চিত নন ব্যাংক-সংশ্লিষ্টরা।
তারা জানান, পলাতক খেলাপি এ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ইস্টার্ন ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার খেলাপি পাওনা ১৫৬ কোটি টাকা, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখার ৫৬ কোটি ৪৪ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪৭ টাকা এবং মেঘনা ব্যাংক জুবলি রোড শাখার ৫৬ কোটি টাকা। অপরদিকে চলতি বছরের প্রথম অধিবেশনে সংসদে শীর্ষ ৩০০ ঋণখেলাপির তালিকাও ইসা বাদশার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ঝুমা এন্টারপ্রাইজ ১২৪ নম্বরে ছিল। তখন প্রতিষ্ঠানটির নামে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১২৬ কোটি টাকা।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ এলাকার বাদশা মার্কেটে তৃতীয় তলায় বাদশা গ্রুপের বাণিজ্যিক অফিস। গত বৃহস্পতিবার সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েকটি টেবিল থাকলেও মাত্র একজন লোক অফিস করছেন। পরিচয় দিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অফিসে কথা বলার মতো কেউ নেই। অন্য এক সময় এলে হয়তো ম্যানেজার সাহেবের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।’ মালিক পক্ষের লোকজন অফিসে আসেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মালিক তো পরিবার নিয়ে কানাডায় বসবাস করছেন। শুনেছি ব্যাংকের সঙ্গে ঋণ নিয়ে ঝামেলা চলছে।’
এ বিষয়ে ওয়ান ব্যাংকের জুবলি রোড শাখার এসভিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক বোরহান উদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, বাদশা শিল্পগ্রুপের ঝুমা এন্টারপ্রাইজ ও মুসা অ্যান্ড ইসা ব্রাদার্সের নামে নেওয়া ঋণ এখন খেলাপি। আর খেলাপির দায়ে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া বন্ধকিতে থাকা সম্পত্তি নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, কানাডায় অবস্থানরত এ ব্যবসায়ী তার পরিচিত একজনকে আইনগত ক্ষমতা দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য নিযুক্ত করেছেন। তিনি ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য আবেদন করেন। তবে ডাউন পেমেন্টের টাকা এখনও জমা দেননি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩ জুন খেলাপি ঋণের দায়ে মিডল্যান্ড ব্যাংকের পরিচালক পদ থেকে বাদ পড়েন ইসা বাদশা মহসিন।

সর্বশেষ..