সারা বাংলা

এবার চীনা কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে দেশটির কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি কোন কর্মকর্তারা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকছেন। এদিকে এ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে আজ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার চীনা প্রতিনিধিদের সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। খবর: রয়টার্স।
এর আগে গত সোমবার ওই একই অভিযোগে ২৮ চীনা সংস্থা-প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়াশিংটনের অনুমতি ছাড়া কোনো মার্কিন পণ্য কিনতে পারবে না। চীনের ওই ২৮ সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি এবং প্রযুক্তিগত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান উইঘুর মুসলিমদের ওপর নজরদারিতে সহায়তা করেছিল।
তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জিনজিয়াং প্রদেশের জননিরাপত্তা ব্যুরোসহ মোট ২০টি সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে। হিকভিশন, দাহুয়া টেকনোলজি, মেগভিল টেকনোলজিসহ বাকি আটটি প্রতিষ্ঠানের সবগুলোই ফেসিয়াল-রিকগনিশন প্রযুক্তিতে বিশ্বসেরা। এর মধ্যে হিকভিশন বিশ্বের অন্যতম বড় নজরদারি সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় চীন এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
জিনজিয়াংয়ের বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে বেইজিং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উইঘুরদের ওপর তীব্র নিপীড়ন চালাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে। বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে প্রায় ১০ লাখ মুসলমানের ওপর বেইজিংয়ের নিপীড়ন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থাও।
চীন শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে, আটক কেন্দ্র নয় ওই ‘স্বেচ্ছা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো’ করা হয়েছে উগ্রবাদ মোকাবিলায়।
তিব্বতের মতো জিনজিয়াংও স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ। এখানকার অধিবাসীদের ৪৫ শতাংশই উইঘুর সম্প্রদায়ের, নৃতাত্ত্বিকভাবে যারা তুর্কি মুসলিম। প্রদেশটির ৪০ শতাংশ অধিবাসী হান।
জুলাইয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে ২০টিরও বেশি দেশ উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর চীনের নিপীড়নের সমালোচনা করে লেখা একটি যৌথ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিল।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..