দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

এবার ফার কেমিক্যালের শেয়ার আলাদিনের চেরাগ!

কম দামি শেয়ার নিয়ে খেলা চলছেই

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পতনের পুঁজিবাজারেও অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে কিছু কোম্পানির শেয়ারদর। কোনো ধরনের কারণ ছাড়াই হুহু করে বাড়ছে এসব শেয়ারের দর। এ দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে স্বল্প মূলধনি, কম দামি ও কমসংখ্যক শেয়ারধারী কোম্পানি। সম্প্রতি এ তালিকায় দেখা যাচ্ছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ফার কেমিক্যালের নাম। এ কোম্পানিতে বিনিয়োগের সঙ্গে সঙ্গেই সন্তোষজনক মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কিছু না ভেবেই এখানে বিনিয়োগ করছেন এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী।

কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই সম্প্রতি এ শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজার-সংশ্লিষ্ট কেউই। এমনকি কোম্পানি-সংশ্লিষ্টরাও এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না।

লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, এক মাসেরও কম সময়ে (১৪ কার্যদিবস) এ শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ৬৯ শতাংশ। ৯ ফেব্রুয়ারি এ কোম্পানির শেয়ারদর ছিল সাত টাকা ২০ পয়সা। এরপর থেকেই বিনা কারণে বাড়তে শুরু করে। ২ মার্চ দর বেড়ে দাঁড়ায় ১২ টাকা ২০ পয়সা। পরবর্তীকালে দুই কার্যদিবস কিছুটা নিন্মমুখী দেখা যায়। গতকাল দিন শেষে প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয় ১১ টাকা ১০ পয়সায়। অর্থাৎ, দুই কার্যদিবস দর কমার পরও প্রতি শেয়ারে দর বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫৫ শতাংশ।

এদিকে বাজারে গুঞ্জন রয়েছে যে, এই শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে। কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস থেকেই এই শেয়ার নিয়ে খেলা হচ্ছে। তারাই কৃত্রিমভাবে বাড়াচ্ছে শেয়ারদর। বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেয়ার বিজকে বলেন, শেয়ারদর কেন বাড়ছে তা আমরা বলতে পারছি না। এ শেয়ারটি সব সময় অভিহিত দরের ওপরে লেনদেন হয়েছে। কেন হঠাৎ করে অভিহিত দরের নিচে চলে গেল, তা যেমন আমাদের জানা ছিল না, তেমনি কেন দর বাড়ছে তাও আমাদের জানা নেই।

শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কিছু শুনিনি। বাজারে বিভিন্ন সময় কারসাজির খবর শোনা যায়। আমাদের কোম্পানির শেয়ার নিয়ে তেমন কিছু ঘটে থাকলে তা আমাদের জানার কথা নয়। কোনো চক্র এটি নিয়ে খেলে থাকলে সেটা তাদের ব্যাপার।’

এদিকে কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে এ প্রতিষ্ঠানের মুনাফা। ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরে এ প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ছিল ২৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা। পরের আর্থিক বছরে তা কমে হয় ২৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে মুনাফা কমে দাঁড়ায় ২০ কোটি ৯১ লাখ টাকায়।

গত তিন বছরে কোম্পানিটির আয়ও ধারাবাহিকভাবে কমতে দেখা গেছে। ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরে মোট আয় হয় ১৪৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। পরের বছর তা কমে হয় ১৩৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১১৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়। এ সময় ভাটা পড়েছে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয়েও। তিন বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় এক টাকা ৭৯ পয়সা থেকে এক দশমিক শূন্য পাঁচে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে গত তিন বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানটি ১০ শতাংশ করে বোনাস শেয়ার প্রদান করে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে রয়েছে। এক বছরের মধ্যে এ শেয়ার সর্বোচ্চ ১৪ টাকা ৭০ পয়সা এবং সর্বনিন্ম সাত টাকায় লেনদেন হতে দেখা যায়।

এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে এ ধরনের কোম্পানির শেয়ারদর কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিক হারে বাড়লে তা খতিয়ে দেখা উচিত। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা জরুরি। তারা কেন একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেশি দরে কিনবেনÑসেটা তাদেরই ভাবতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..