শেষ পাতা

এবার ব্যাংক রেট কমানোর পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ব্যাংক

শেখ আবু তালেব: নীতিনির্ধারণী সুদ বা পলিসি রেট হিসেবে বিবেচিত ব্যাংক রেট কামানোর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানের পাঁচ শতাংশ থেকে নামিয়ে চার শতাংশ করা হবে এটি। ফলে প্রায় দেড় যুগ পর কমতে যাচ্ছে ব্যাংক রেট। দায়িত্বশীল সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংক রেট হলোÑযে সুদহারে বাণিজ্যিক ব্যাংককে ঋণ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক তা ব্যাংক রেট নামে পরিচিত। সাধারণত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিভিন্ন প্রয়োজনে নগদ তারল্য চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ধার নিয়ে থাকে। তখন ব্যাংক রেটে তাদের ঋণ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো দেশের মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে যে উপকরণগুলো ব্যবহার করা হয়, তার অন্যতম হলো ব্যাংক রেট।

দেশে সর্বশেষ ব্যাংক রেট কমানো হয়েছিল ২০০৩ সালে। বাংলাদেশে ব্যাংক রেট সর্বোচ্চ উঠেছিল ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অর্থনীতির প্রয়োজনে এ হার সময়ে সময়ে পরিবর্তন করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৭ বছরের আর্থিক সময় ধরে ব্যাংক রেট একই জায়গায় স্থির রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা শঙ্কা করছেন, ব্যাংক রেট কমলে মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে যাবে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে পারে মূল্যস্ফীতির ওপরে। এতে বর্তমানে সাড়ে পাঁচ শতাংশে থাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে বলা হয়। এজন্য সরকারের অগ্রাধিকার খাত বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী কমিটি একটি সুপারিশ দেয়। ওই সুপারিশে পরামর্শ দেওয়া হয়, ব্যাংক রেট এক শতাংশ কমিয়ে পাঁচ শতাংশ থেকে চার শতাংশে নামিয়ে আনার। এরপরই ব্যাংক রেট কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কোনো মতেই বাড়ানো যাচ্ছে না বেসরকারি বিনিয়োগের গতি। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কম রয়েছে। এর প্রভাবে কমে আসছে সরকারের রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ। বাড়ছে ধার।

আবার আগামী এপ্রিল থেকে সরকার ব্যাংক সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য সরকারি বিভিন্ন তহবিলের আমানত সুদহার ছয় শতাংশে নামিয়ে এনেছে সরকার। তখন ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল ব্যাংক রেট কমিয়ে আনার।

বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে ব্যয় কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এজন্য উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংক রেট বাড়ালে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ দান ক্ষমতা কমে। বাজারে মুদ্রার সরবরাহ কমে যায়। আবার রেট কমালে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদান ক্ষমতা বাড়ে। তখন বাজারে মুদ্রার সরবরাহও বাড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমানে দেশে মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে ব্যাংক রেটের ব্যবহার সেভাবে হয় না। নীতিনির্ধারণী রেপো ও রিভার্স রেপো চালুর পর থেকে অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়ে ব্যাংক রেট। বর্তমানে ব্যাংক রেট বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকের নিজস্ব ও দাতাগোষ্ঠীর অর্থায়নে পরিচালিত সব পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের তহবিলে ব্যবহƒত হয়। সাধারণত পুনঃঅর্থায়নের স্কিমগুলোর অর্থ ব্যাংক রেটে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ব্যাংক রেট সর্বশেষ কমানো হয় ২০০৩ সালের ৬ নভেম্বর। ওই সময়ে সুদহার ছয় শতাংশ থেকে এক শতাংশ কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়। এর পূর্বে ১৯৮৯ সালে ব্যাংক রেট ছিল সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যা ১৯৯১ সালের ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত অপরিবর্তিত ছিল।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..