শেষ পাতা

এবার ভিন্ন আঙ্গিকে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উদ্যাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক : মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারের ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উদ্যাপনের কর্মসূচিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে আইসিটি বিভাগ। ‘যদিও মানছি দূরত্ব, তবুও আছি সংযুক্ত’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আগামী ১২ ডিসেম্বর চতুর্থবারের মতো দেশের জেলা-উপজেলা এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে ভার্চুয়ালি উদ্যাপিত হবে দিবসটি।

গতকাল আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এমএন জিয়াউল আলম ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম আরশাদ হোসেন। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরে নির্বাচনী ইশতিহার ঘোষণা করেছিল আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করা হয়। সেই থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো ধারাবাহিকভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ।

ডিজিটাল বাংলাদেশের ইশতেহারকে স্মরণীয় করে রাখতে গত তিন বছর ধরে প্রতি বছর ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালন করে আসছে আইসিটি ডিভিশন।

সংবাদ সম্মেলনে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী যখন রূপকল্প-২০২১ এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপরেখা ঘোষণা করেন তখন বাংলাদেশে ছিল একটি নি¤œ আয়ের দরিদ্র রাষ্ট্র। পার ক্যাপিটা ইনকাম ৫০০ ডলারের নিচে ছিল। মাত্র ৫৬ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পার তো, মাত্র ৪৪ শতাংশ মানুষ ছিল বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায়। সেই বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের, প্রযুক্তিনির্ভর, ডিজিটাল বাংলাদেশে উন্নীত করার রূপরেখা অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেনি, ঠাট্টা-তামাশা করেছেন। আজ ১২ বছরের মাথায় সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা আজকে আর কোনো রূপকথার গল্প নয়।’

এবারের কর্মসূচি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দিবসটি উপলক্ষে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ১২ বছরের সাফল্য ও অর্জন তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে টকশো প্রচার, দিবসটির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তুলে ধরে বাংলা ও ইংরেজিতে দুটি ওয়েবিনার, কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে কুইজ প্রতিযোগিতা, জেলা ও উপজেলায় ডিজিটাল বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক রচনা, উপস্থিত বক্তৃতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সভা সেমিনার, কর্মশালা, সচেতনতামূলক নাটিকা পরিবেশন, শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের পুরস্কার দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

১২ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭টায় আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। সকাল ১০টায় চতুর্থ ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসের উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হবে। সরাসরি ও ভার্চুয়াল উভয় ধরনের আয়োজন থাকবে তাতে।

বেলা ৩টায় শুরু হবে ভার্চুয়াল জাতীয় সেমিনার। রাত ৮টায় একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হবে। সেমিনারে প্রধান অতিথি ও কি-নোট স্পিকার হিসেবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

কুইজ প্রতিযোগিতা: ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষে ৮ ডিসেম্বর রাত ৮টায় দেশব্যাপী অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে আগ্রহীদের ২৭ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে িি.িয়ঁরু.ফরমরঃধষনধহমষধফবংয.মড়া.নফ ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..