খবর

এবার মাদক মামলায় অব্যাহতি পেলেন ইরফান সেলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক: বহুল আলোচিত ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে অস্ত্র মামলার পর মাদক আইনের মামলায়ও অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

এ মামলায় পুলিশের দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ঢাকার মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান গতকাল সোমবার ইরফান সেলিমকে অব্যাহতির আদেশ দেন।

অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে চকবাজার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন গত ৫ জানুয়ারি ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে ওই মামলা থেকে ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি দেন ঢাকার এক নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ।

ইরফানের আইনজীবী প্রাণনাথ বলেন, তার বিরুদ্ধে পাঁচ মামলার মধ্যে দুই মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। আর মাদক মামলাসহ দুই মামলায় অব্যাহতি পেলেন।

এছাড়া নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের মামলায় সম্প্রতি ইরফানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে আদালতে। সে মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।

গত ২৪ অক্টোবর রাতে ধানমন্ডি এলাকায় সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো হাজী সেলিমের একটি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওয়াসিফ।

পরদিন ২৫ অক্টোবর পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটের দেবীদাস লেনে হাজী সেলিমের বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান চালায় র‌্যাব। আটক করা হয় ইরফান ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে।

ওই ভবন থেকে দুটি অবৈধ পিস্তল, গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৭টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া এবং বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করার কথা সে সময় র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

মদ আর ওয়াকিটকির জন্য ইরফান ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাস করে এক বছরের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

দেবীদাস লেনে ওই অভিযানের মধ্যেই চকবাজারের আশিক টাওয়ারে ইরফানের ‘নির্যাতন কেন্দ্রের’ সন্ধান পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব।

পরে ইরফান সেলিমকে কারাগারে পাঠানো হয়। অস্ত্র ও মাদক আইনে আলাদা মামলা দায়ের করা হয়। ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পদ থেকেও বরখাস্ত হন তিনি।

র‌্যাবের ওই অভিযানের পর রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় হাজী সেলিমের ‘দখলদারির’ খবর আসতে থাকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারাও হাজী সেলিমের ‘অবৈধ সম্পদ’ অনুসন্ধানে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে।

ইরফান ও তার দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে দায়ের করা র‌্যাবের মামলার এজাহারে বলা হয়েছিল, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুরান ঢাকায় ইরফানদের বাড়িতে সেই অভিযান চালানো হয়। ভবনের চতুর্থ তলা থেকে জাহিদুল মোল্লাকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৪০৬টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

আর চতুর্থ তলার আরেক কক্ষ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল এবং ইরফান সেলিমের কক্ষ থেকে ১২টি বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ বলেছে, আগ্নেয়াস্ত্র বা মদ ও মাদক যে ইরফান সেলিমের, সে বিষয়ে সন্দেহাতীত কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।

মামলার এজাহারে মিসটেক অব ফ্যাক্টস, অর্থাৎ তথ্যগত ভুল ছিল বলে জানিয়ে ইরফানের অব্যাহতি চাওয়া হয় সেখানে।

তবে জাহিদ মোল্লার কোমর থেকেই একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছিল, সঙ্গে ৪০৬টি ইয়াবা পাওয়া গিয়েছিল, সে কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..