বিশ্ব সংবাদ

এবার ৭৩৭ এনজি নিয়ে বিপাকে বোয়িং

শেয়ার বিজ ডেস্ক: এবার নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৩৭ এনজি উড়োজাহাজ নিয়ে বিপাকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের বহরে এ মডেলের উড়োজাহাজে ফাটল দেখা দেওয়ায় উড্ডয়ন বন্ধ করে দিয়েছে। এ সংখ্যা অন্তত ৫০টি হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এদিকে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন সিনেটে প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়েছেন বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী। খবর: এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স।

গতকাল বৃহস্পতিবার এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অন্তত ৫০টি এ মডেলের উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড করেছে এয়ারলাইনসগুলো। যদিও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বোয়িং। তবে কান্তাস এয়ারলাইনস ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনস জানিয়েছে, বোয়িং ৭৩৭ এনজি মডেলের উড়োজাহাজের কাঠামোগত ফাটল পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

সমস্যা চিহ্নিত করার পর তাৎক্ষণিক পরিদর্শনের প্রয়োজন নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। এছাড়া কান্তাস এয়ারলাইনসের ওই মডেলের একটি উড়োজাহাজে ফাটল পাওয়ার পর উড্ডয়ন বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে বিবিসি। কান্তাস বলেছে, কোনো উড়োজাহাজ পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তা দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে না। বোয়িং জানিয়েছে, মূল কাঠামোর সঙ্গে যে স্থানে বিমানের ডানা যুক্ত করা হয়, সেখানে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সব বোয়িং ৭৩৭ এনজি মডেলের উড়োজাহাজ পরীক্ষার নির্দেশ দেয়।

এরই মধ্যে নিজেদের সবচেয়ে বেশি বিক্রীত ৭৩৭ ম্যাক্স আট মডেলের উড়োজাহাজ নিয়ে বিপদে রয়েছে বোয়িং। বিশ্বজুড়ে এ মডেলের সব উড়োজাহাজ উড্ডয়ন বন্ধ রয়েছে কয়েক মাস ধরে। এ মডেলের উড়োজাহাজকে ‘উড়ন্ত কফিন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন আইন প্রণেতারা। সিনেটের বাণিজ্য কমিটির কাছে ৭৩৭ ম্যাক্স ইস্যুতে প্রশ্নের মুখোমুখি হন  বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী ডেনিস মুইলেনবার্গ। সিনেট অভিযোগ করেছে, নিরাপত্তার তুলনায় মুনাফাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে কোম্পানিটি। এছাড়া উড্ডয়নের অনুমতি পেতে তারা অনেক বেশি অগ্রসর বলেও মনে করছে সিনেট। এ সময় মুইলেনবার্গ নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন।

গত সপ্তাহে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ফের মুনাফায় ফেরার কথা ঘোষণা করে বোয়িং। সে সময় ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজ চলতি বছরের শেষ নাগাদ পুনরায় উড্ডয়ন শুরু করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এরই মধ্যে ৭৩৭ এনজি নিয়ে নতুন করে বিপাকে পড়ল বোয়িং।

দুটি বড় দুর্ঘটনায় বিপুলসংখ্যক প্রাণহানির পর বিশ্বজুড়ে ৭৩৭ ম্যাক্স জেটের উড্ডয়ন বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে গত বছর ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারের ৭৩৭ ম্যাক্স দুর্ঘটনায় ১৮৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। এরপরই বোয়িং জানায়, তারা তাদের সফটওয়্যার ব্যবস্থা আপডেট করবে। চলতি বছরের মার্চে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের এ মডেলের অপর একটি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পতিত হলে নিহতের সংখ্যা ৩৪৬ জনে দাঁড়ায়।

কবে নাগাদ উড়োজাহাজটি ফের উড্ডয়ন শুরু করবে এ ব্যাপারে বোয়িং বলেছে, ৭৩৭ ম্যাক্স বহরে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য নিয়ন্ত্রণকদের সঙ্গে কাজ করছে তারা। বোয়িং জানিয়েছে, এ মডেলের একটি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা হালনাগাদ করা হয়েছে। ২০২০ সালের শুরুর আগেই ৭৩৭ ম্যাক্সের উড্ডয়ন শুরু করতে কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেবে বলে তারা আশা করছে।

৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি আগে থেকে জানতেন কি না, সে বিষয়ে চাপে রয়েছেন মুইলেনবার্গ। দুর্ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের দেওয়া তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, ওই ত্রুটির বিষয়ে ২০১৬ সালে কোম্পানির কর্মী বার্তা আদান-প্রদান করেছিলেন। ফলে বিষয়টিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইন্দোনেশিয়ার তদন্তেও ৭৩৭ মাক্সের ওই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বা এমসিএএস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

সর্বশেষ..