দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

এভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কত দিন চলবে পুঁজিবাজার?

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে টানা পতন চলছেই। গতকাল ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ৫০ পয়েন্টের বেশি। সেইসঙ্গে লেনদেন হয় ২০০ কোটি টাকার ঘরে। এ নিয়ে টানা ছয় দিনে সূচক কমল ২২৬ পয়েন্ট। টানা পতনে বিনিয়োগকারীরা দিশাহারা হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিচ্ছেন। এরপর হয়তো কিছু একটা সিদ্ধান্ত হবে। তাতে করে বাজারে কয়েক দিন সূচক ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং লেনদেন বাড়বে। এরপর মাসখানেকের মধ্যে ফের পতন শুরু হবে। আবার বিনিয়োগকারীরা আন্দোলন করবেন। এক বছর ধরে বাজারে এ চিত্র নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে  ধীরে ধীরে বাজারের পতন ক্রমাগত বাড়ছে। আর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কতদিন চলবে পুঁজিবাজার? এভাবে চলতে চলতে একসময় পুঁজিবাজারের অস্তিত্বই না বিলীন হয়ে যায়Ñএমনটাই আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের।

গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৫০ পয়েন্ট সূচক পতনের পাশাপাশি ৬৫ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। ব্যাংক, বিমা, বস্ত্র ও জ্বালানি খাতে লেনদেন সামান্য হারে বেড়েেেছ। মন্দাবাজারে সব খাতে দরপতনের আধিক্য থাকলেও ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক খাতে তুলনামূলকভাবে কম দরপতন হয়। ১৮ শতাংশ করে লেনদেন হয় প্রকৌশল এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে। প্রকৌশল খাতে ৭৪ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। ১৭ কোটি টাকা লেনদেন হওয়ায় ন্যাশনাল টিউবস শীর্ষে উঠে আসে। দরপতন হয় সাড়ে তিন টাকা। মুন্নু জুট স্টাফলার্সের প্রায় ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় ৮১ টাকা। এটলাস বাংলাদেশের সাড়ে চার কোটি টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় প্রায় চার টাকা। ছয় শতাংশ বেড়ে নাহি অ্যালুমিনিয়াম ক্যাপিটাল দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৭৫ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। আগের দিন ইতিবাচক থাকলেও গতকাল স্কয়ার ফার্মার এক টাকা ৮০ পয়সা দরপতন হয়। লেনদেন হয় সাড়ে ১১ কোটি টাকা। ওয়াটা কেমিক্যালের প্রায় ১১ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দরপতন হয় পাঁচ টাকা ২০ পয়সা। জেএমআই সিরিঞ্জের সাড়ে ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর কমেছে পাঁচ টাকা ২০ পয়সা। তবে সাড়ে তিন শতাংশ বেড়ে কহিনূর কেমিক্যাল দরবৃদ্ধিতে ষষ্ঠ অবস্থানে ছিল। জ্বালানি খাতের লেনদেন তিন শতাংশ বেড়ে হয় ৯ শতাংশ। এ খাতে ৬৩ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। সামিট পাওয়ারের সাড়ে সাত কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর অপরিবর্তিত ছিল। বস্ত্র খাতে ৬৭ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। লেনদেন বেড়েছে এক শতাংশ। ছয় শতাংশ বেড়ে এমএল ডায়িং দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। এছাড়া শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ও নিউ লাইন ক্লোথিংস শীর্ষ দশের তালিকায় উঠে আসে। ব্যাংক খাতে লেনদেন বেড়েছে দুই শতাংশ। দর বেড়েছে ৪৩ শতাংশের। ব্যাংক এশিয়া দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে। বিমা খাতে ৫৯ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে। আর্থিক খাতে ৫৪ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। বিডি ফাইন্যান্স দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। টেলিযোগাযোগ, সিরামিক, পাট, সেবা ও আবাসন এবং কাগজ ও মুদ্রণ শতভাগ নেতিবাচক ছিল।    

সর্বশেষ..