প্রচ্ছদ শেষ পাতা

এমএম এক্সেসরিজের বন্ড সুবিধার অপব্যবহার

নিজস্ব প্রতিবেদক: এক্সেসরিজ খাতের শতভাগ রফতানিকারক মেসার্স এমএম এক্সেসরিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ড সুবিধার কাঁচামাল চোরাইপথে খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়ে আসছে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির বন্ড সুবিধার অপব্যবহার উদঘাটন করেছে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. সহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মিরপুর পল্লবী এলাকার মেসার্স এমএম এক্সেসরিজ লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গত ৮ এপ্রিল সহকারী পরিচালক মো. আবু হাসানের নেতৃত্বে পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে শতভাগ প্রচ্ছন্ন রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধির সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির ওয়্যারহাউজে প্রবেশ করে কিছু ওয়েস্টেজ ও ৪০ কেজি প্রিন্টিং ইন্ক পাওয়া যায়। পরে গোয়েন্দা দল ফাঁকিকৃত শুল্ককর নির্ণয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে বারবার মৌখিকভাবে প্রতিষ্ঠানের বন্ড রেজিস্টার ও সর্বশেষ ইউপির কপি জমা দিতে বললে তিনি তা জমা দেননি।
শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের ফ্যাক্টরি অফিস থেকে বন্ডের সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদিত রফতানিযোগ্য পণ্য বিক্রয়ের তিনটি বিক্রয় রেজিস্টার জব্দ করেন। বিক্রয় রেজিস্টার পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত এলডিপিই ও এলএলডিপি পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার ২৫০ কেজি, পিপি ও পিপি ফিল্ম গ্রেড তিন লাখ ৫৬ হাজার ৭৫০ কেজি এবং বিওপিপি এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৪৩ কেজি দিয়ে প্রিন্টিং পিই ও ব্লিস্টার ব্যাগ উৎপাদন করে রফতানি না করে প্রায় দুই কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার ৫৭৫ টাকার পণ্য স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে বিক্রি করে দিয়েছে; যাতে শুল্ককর ফাঁকি প্রায় ৩৬ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬ টাকা। প্রতিষ্ঠানের বন্ডিং কার্যক্রম খতিয়ে দেখা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ড. মো. সহিদুল ইসলাম।

সর্বশেষ..