সম্পাদকীয়

এমন লঞ্চ দুর্ঘটনা কাম্য হতে পারে না

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এমনিতেই দেশে এক প্রকার মাতম চলছে। প্রতিদিনই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। তার মধ্যে নতুন ক্ষতের জন্ম দিল বুড়িগঙ্গায় নৌ-দুর্ঘটনা। দেশে নৌ-দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর এ আধুনিক যুগেও এভাবে একের পর এক দুর্ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। সাধারণত ঈদের সময় অরিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে বিভিন্ন লঞ্চঘাটে নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। কিন্তু গতকালের দুর্ঘটনার যে ভিডিও ফুটেজ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে সবারই মনে হয়েছে এমন দুর্ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। অনেকে বলেছেন, ফুটেজ দেখে মনে হয়েছে বড় লঞ্চটি ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রলারটিকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে গতকাল দৈনিক শেয়ার বিজে ‘বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি ৩২ মরদেহ উদ্ধার’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ঢাকার শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে বড় এক লঞ্চের ধাক্কায় আরেকটি ছোট লঞ্চ ডুবে যায়। এ ঘটনায় ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এমন দুর্ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। দুর্ঘটনার পর সবসময়ই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কমিটিগুলোর প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না। এমনকি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাও জানা যায় না। পাশাপাশি উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে বিমার ব্যবস্থা আছে, যা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রী ও তার পরিবার সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু লঞ্চের ক্ষেত্রে এমনটি নেই। আবার অনেক নৌযানের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেই। তাছাড়া উৎকোচের বিনিময়ে চলাচলের অনুপযোগী নৌযানকে ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়ার অভিযোগও নতুন নয়। এতে অনেক ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচলে সুযোগ পেয়ে যায়। এ ধরনের নৌযানগুলোই দুর্ঘটনার জন্য বেশি দায়ী বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করেন।

কাজেই নৌ-দুর্ঘটনা কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের দায়বদ্ধতা সবচেয়ে বেশি। দুর্ঘটনা কমানোর জন্য সর্বপ্রথম এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। আর সেটা করতে হলে প্রথমেই নৌ খাতের দুর্নীতির মূলোৎপাটনের উদ্যোগ নিতে হবে। কোনোভাবেই যাতে ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচলের অনুমতি না পায়, সে বিষয়টি আগে নিশ্চিত করতে হবে। এরপর যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, দক্ষ চালক নিয়োগ। অনেক ক্ষেত্রে নবীন ও শিক্ষানবিস চালকের মাধ্যমে দূরপাল্লার নৌযান চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর পাশাপাশি নৌযান চলাচলের জন্য যেসব নীতিমালা রয়েছে, তা অনুসরণের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যেসব দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়, সেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ কাম্য। এ ধরনের উদ্যোগ না নিলে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। কাজেই এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তৎপর হওয়া জরুরি বলে মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..