খবর

এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশনে শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় আমরণ অনশন শুরু করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এমপিওভুক্ত নয় এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একদল শিক্ষক-কর্মচারী এ অনশন শুরু করেন। এমপিওভুক্ত ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কমর্চারী সরকার থেকে মাসে মূল বেতন ও কিছু ভাতা পান।

নতুন নীতিমালা স্থগিত করে আগের নিয়মে স্বীকৃতি পাওয়া সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মানথলি পে-অর্ডারভুক্তির (এমপিও) দাবিতে এবং এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে গত মঙ্গলবার থেকে আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। গত শুক্রবার থেকে আমরণ অনশন শুরুর কথা থাকলেও শিক্ষামন্ত্রীর ফোনে আমরণ অনশন স্থগিত করে গত রোববার রাতে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউশনে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে সেখানে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী এ বছরের এমপিওভুক্তির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নেই। তবে বিদ্যমান নীতিমালা পরিবর্তন করে সে অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি বছর এমপিওভুক্তি করা হবে। শিক্ষকরা শিক্ষামন্ত্রীর এ কথায় আশ্বস্ত না হয়ে আমরণ অনশন শুরুর ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল আমরণ অনশন শুরু করেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে দেখা যায়, আন্দোলনকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অংশ আমরণ অনশন করছেন। আরেক অংশ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে।

অন্যান্য শিক্ষকের সঙ্গে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী এবং সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ রায়ও আমরণ অনশন করছেন। গোলাম মাহমুদুন্নবী বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

সর্বশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছিল। এরপর থেকে এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন চলছে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন এমপিওভুক্তির ঘোষণার কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগির সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করবে।

আজ মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন।

সর্বশেষ..