দিনের খবর প্রথম পাতা

এলটিইউ থেকে বাদ পড়ল ‘হেভিওয়েট’ ৩৪ প্রতিষ্ঠান

তিন বছরে গড় রাজস্ব ১০ কোটি টাকার নিচে

রহমত রহমান: রাজস্ব পরিশোধ প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী থাকা ৩৪টি বড় প্রতিষ্ঠানকে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)-মূল্য সংযোজন কর (মূসক) শাখা থেকে বাদ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এসব প্রতিষ্ঠানের গত তিন অর্থবছরের গড় রাজস্ব ১০ কোটি টাকার নিচে হওয়ায় বাদ দেয়া হয়েছে। এনবিআরের আদেশ অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান এলটিইউ’র অধীনে থাকার জন্য প্রযোজ্য শর্তের পরিপন্থি।

প্রতিষ্ঠানের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ঢাকার চারটি ভ্যাট কমিশনারেটে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা পূর্ব ভ্যাট কমিশনারেটে ১৩টি, ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে ৯টি, ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে আটটি ও ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটে চারটি।

৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে বর্তমানে এলটিইউতে থাকা ১১০টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে এনবিআর থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি এনবিআর সদস্য (মূসক নীতি) মো. মাসুদ সাদিক সই করা এ আদেশ জারি করা হয়। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম এলটিইউ পরিদর্শন ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেন। সভায় যেসব প্রতিষ্ঠানের গত তিন অর্থবছরে পরিশোধিত রাজস্বের নিট গড় ১০ কোটি টাকার কম, সেসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, এলটিইউ ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে তা এনবিআরে প্রেরণ করে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর গত অর্থবছরের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি, মার্কেট শেয়ার, ব্যালান্স শিট, আয় প্রবৃদ্ধি ও প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি যাচাই করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, ৩০ নভেম্বর এনবিআরে এ নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যাতে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা ছাড়া বাকি ৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে এলটিইউ থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে প্রতিষ্ঠানের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ঢাকার চারটি ভ্যাট কমিশনারেটে স্থানান্তর করা হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এলটিইউ প্রতিষ্ঠান ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী কোন কমিশনারেটের আওতাধীন হবে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, বিআইএন নম্বরসহ তালিকা তৈরি করে ২৪ ডিসেম্বর এনবিআরে প্রেরণ করে। সে অনুযায়ী এনবিআর ৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে এলটিইউ থেকে বাদ দিয়ে এলটিইউতে থাকা (বর্তমানে) ১১০টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে চলতি বছরের ২৪ মার্চ আদেশ জারি করে।

আদেশে বলা হয়, ‘মূল্য সংযোজন ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর আওতায় এনবিআরের সাধারণ আদেশ (আদেশ নং-৪/মূসক, ১৩ জুন ২০১৯) অনুযায়ী এলটিইউ-মূসকের জন্য করদাতা নির্বাচন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। সেই আদেশের অনুচ্ছেদ ৪-এর উপ-অনুচ্ছেদ (৩) অনুযায়ী এলটিইউয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা হলো। এনবিআর এলটিইউয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের সংখ্যা যে কোনো সময় হ্রাস বা ?বৃদ্ধি করতে পারবে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ১১৮ক-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই আদেশ জারি করা হয়েছে।’

এলটিইউ থেকে বাদ দেয়া ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩টি প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর হবে ঢাকা পূর্ব ভ্যাট কমিশনারেটে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে-মীর গ্রুপের মীর সিমেন্ট, অটবি (ইউনিট-৩), পারটেক্স স্টার গ্রুপের প্রতিষ্ঠান পারটেক্স ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রিজ ও স্টার পার্টিকেল বোর্ড মিলস, মেঘনা গ্রুপের ইউনাইটেড এডিবল অয়েল, সিটি গ্রুপের দীপা ফুড প্রোডাক্টস ও ফারজানা অয়েল রিফাইনারি, মাগুরা গ্রুপের মাগুরা পেপার মিলস, বম্বে সুইটস কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ট্রাইসপ্যাক ও দি বেঙ্গল প্যাকেজেসসহ ১৩টি প্রতিষ্ঠান।

ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে স্থানান্তর হবে নয়টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-ন্যাশনাল পলিমার গ্রুপের ন্যাশনাল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ, মিউচুয়াল গ্রুপের মিউচুয়াল ফুড প্রোডাক্টস, মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজ (ইউনিট-২), জিএ কোম্পানি, ইন্টাস্পিড অ্যাডভার্টাইজিং, টাম্পকো ফয়েলস, আকিজ প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজেস, আকিজ পার্টিকেল বোর্ড ও ন্যাশনাল টিউবস।

ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে স্থানান্তর হবে আটটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে-ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স কোং, ফনিক্স ইন্স্যুরেন্স, লালবাগ কেমিক্যাল অ্যান্ড পারফিউমারি ওয়ার্কস, জেসন ফার্মাসিউটিক্যালস, অপসোনিন গ্রুপের গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।

ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটে স্থানান্তর হবে চারটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-বাংলাদেশ ইন্স্যুলেটর অ্যান্ড সেনিটারিওয়্যার ফ্যাক্টরি (বিআইএসএফ), লিবরা ইনফিউশন, সিনহা প্রিন্টার্স ও এক্মি এগ্রোভেট অ্যান্ড বেভারেজ।

এনবিআর সূত্রমতে, আধুনিক মূসক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, সর্বোচ্চ মূসক প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সেবা প্রদান ও সর্বোচ্চ মূসক আহরণের লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ১ অক্টোবর ভ্যাটের বিশেষায়িত শাখা হিসেবে এলটিইউ গঠন করে এনবিআর। ওই বছর প্রাথমিকভাবে ১৬৬টি ইউনিটের (প্রতিষ্ঠান) মাধ্যমে এলটিইউ যাত্রা শুরু করে। পরে কিছু প্রতিষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এলটিইউতে যোগ হয়। তবে এলটিইউতে থাকা কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ, কিছু প্রতিষ্ঠান মূল কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান অন্য কমিশনারেটের স্থানান্তর হয়েছে। বর্তমানে এলটিইউ মোট ভ্যাট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬০ শতাংশ জোগান দেয়।

এলটিইউতে প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি সিলেকশন কায়টেরিয়া করা হয়। পরে এনবিআরের ২০১২ সালের এক স্থায়ী আদেশের নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘করদাতা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে বার্ষিক টার্নওভার, পরিশোধিত রাজস্ব এবং বৃহৎ করদাতা প্রতিষ্ঠানের অ্যাসোসিয়েটস ও সাবসিডিয়ারি-সংক্রান্ত বিষয়াদি বিবেচনায় আনতে হবে। প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী ৩ বছরের গড় বার্ষিক ন্যূনতম ৫ কোটি টাকা রাজস্ব পরিশোধকারী করদাতা প্রতিষ্ঠান এলটিইউয়ের আওতাভুক্ত হবে।’

আরো পড়ুন

## রাজস্ব কমায় ৩৫ প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিতে চায় এলটিইউ

## এলটিইউতে আসছে আরও ছয় প্রতিষ্ঠান

## ১০ কোটি টাকা ভ্যাট দেওয়া সব প্রতিষ্ঠান আসবে এলটিইউতে

## ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে ৭৫ প্রতিষ্ঠানের ৭৫ সমস্যা

## নিম্নস্ল্যাবের সিগারেট বিক্রিতে বিএটি-জেটিআই’র কারসাজি

## রাজস্বে আশা দেখাবে সিগারেট, ঔষধ, সুপারশপ, মোবাইল

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..