শেষ পাতা

এলডিসি থেকে বের হলে অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে না সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সাল নাগাদ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হবে বাংলাদেশ। এ তালিকার বাইরে চলে এলে উন্নত দেশে রফতানির ক্ষেত্রে যেসব সুবিধা পাওয়া যায়, তা থেকে বঞ্চিত হবে বাংলাদেশ। তবে এতে দেশের অর্থনীতিতে তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আর চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সাত দশমিক ২৫ থেকে সাড়ে সাত শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় মিলনায়তনে গতকাল ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য জ্যেষ্ঠ সচিব ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা সচিব তারিক-উল-ইসলাম, আইএমইডি সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী প্রমুখ।

সম্প্রতি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে বের হতে সক্ষম হবে। এতে বিশ্বদরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। ফলে বিদেশিরা এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। এতে বাড়বে উৎপাদন কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান। চূড়ান্তভাবে যা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। ফলে এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর উন্নত দেশে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত অগ্রাধিকার সুবিধা বন্ধ হলেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না দেশের অর্থনীতিতে।

প্রবৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল সাত শতাংশ। কিন্তু অর্জিত হয়েছে সাত দশমিক ১১ শতাংশ। চলতি অর্থবছর সাত দশমিক দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হলেও এটি সাত দশমিক ২৫ থেকে সাড়ে সাত শতাংশের মধ্যে থাকবে। তবে এ জন্য আমাদের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

মন্ত্রী জানান, জিডিপির এক শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে প্রয়োজন জিডিপির চার শতাংশ বিনিয়োগ। বিনিয়োগ ছাড়া কিছু আশা করা যায় না। আবার বিনিয়োগ কিছুটা কম হলেও প্রবৃদ্ধি অর্জনে মানবসম্পদ সূচককে আমাদের বাড়াতে হবে। বর্তমানে আমাদের বিনিয়োগ হার জিডিপির ৩০ শতাংশ। সে হিসাবে সাড়ে সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা।

মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ব্যয় হয়েছে ২৩ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। এটি এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ১৩টি একনেক সভায় দুই লাখ ২৭ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকার ১০১টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময় অনুমোদন হয়েছিল মাত্র ৮৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প। এতে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সক্ষমতা অনেক বেড়েছে।

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..