দিনের খবর প্রথম পাতা

এলডিসি-পরবর্তী অর্থনীতিতে চার চ্যালেঞ্জ দেখছে সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে বাংলাদেশ। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশকিছু সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ; যা দেশের রপ্তানি খাতকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে চারটি প্রধান চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংস্থাটি সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধন ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

রাজধানীর ব্র্যাক স্টোর ইনে গতকাল এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব বিষয় তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। এছাড়া আলোচক হিসেবে অংশ নেন বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক, মালেক স্পিনিং মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মতিন চৌধুরী ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের সিইও নাসের এজাজ বিজয়। ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান।

মূল বক্তব্যে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর চারটি প্রধান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। এগুলো হলোÑবিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রবেশগম্যতা সংকুচিত হওয়া, বিভিন্ন বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তন হওয়া, দেশে শুল্ক-করের ক্ষেত্রে যখন-তখন পরিবর্তন আনার সুযোগ সীমিত হওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের কমপ্লায়েন্স পরিপালনে বাধ্যবাধকতা আরোপ হওয়া।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার হারাবে। ফলে রপ্তানি খাত চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতে দরকষাকষিরও নানা সুযোগ রয়েছে। যেমনÑবাংলাদেশ নিট খাদ্যপণ্য আমদানিকারক দেশ হওয়ায় এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও কিছু সুবিধা বহাল থাকবে। আর সেসব সুবিধা আদায় করতে হলে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে।

উত্তরণের পরবর্তী পর্যায়ে অর্থনীতিতে যাতে হঠাৎ করে বড় ধরনের ঝাঁকি না লাগে, সে জন্য চারটি উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে সুপারিশ করেন এ বিশেষজ্ঞ। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছেÑস্বল্প খরচে পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য শক্তিশালীকরণ, বিভিন্ন নীতি প্রণয়নে হরহামেশা পরিবর্তন আনয়নের পরিবর্তে বিদ্যমান নীতিগুলো পরিপালন কার্যক্রম জোরদারকরণ এবং কমপ্লায়েন্স শক্তিশালীকরণ। এছাড়া বাংলাদেশ যাতে বড় ধরনের শক্তি সঞ্চয় করে উত্তরণ করতে পারে, সে জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ওপর জোর দেন তিনি। এক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অদীনে একটি এলডিসি সেল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন মোস্তাফিজুর রহমান।

শাহরিয়ার আলম বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর কিছু সুযোগ-সুবিধা সংকুচিত হবে সত্য। তবে এক্ষেত্রে বেশকিছু সুযোগও সৃষ্টি হবে। উত্তরণের ফলে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ সুযোগ বাড়বে। তাছাড়া বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও বিদেশ থেকে বেশি হারে ঋণ নেয়ার সুযোগ পাবে। বিনিয়োগ বাড়ার ফলে দেশে সার্বিক কর্মসংস্থানও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতা সম্প্রসারণ, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, উত্তরণের পরও বিভিন্ন দেশে ডিউটি ফ্রি, কোটা ফ্রি প্রবেশাধিকার বহাল রাখার বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আবদুল মতিন চৌধুরী দেশের শিক্ষা কার্যক্রমে শিল্পের প্রয়োজনানুসারে পাঠ্যক্রম যুক্ত করার পরামর্শ দেন। ড. রুবানা হক বলেন, সরকার যেসব রূপকল্প নির্ধারণ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে বেসরকারি খাতকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে হবে। তিনি তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য বিভিন্ন সংরক্ষণমূলক সুবিদাদি বহাল রাখার দাবি জানান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..