সম্পাদকীয়

এলপিজির নির্ধারিত দাম কার্যকর হোক

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের মধ্যে অন্যতম হলো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবস্থা করা। বর্তমান সময়ে সারাবিশ্বেই পরিচ্ছন্ন জ্বালানির অনেকগুলো উপকরণ বিদ্যমান। তার মধ্যে একটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। কিন্তু এ খাতে সরকারের সরবরাহ সক্ষমতা খুবই কম। তাই এ খাত মূলত বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বেসরকারি পর্যায়ে যেসব প্রতিষ্ঠান এলপিজি উৎপাদন ও বাজারজাত করে, তারা তাদের ইচ্ছামতো দামে এটি বাজারে ছাড়ে। এতদিন সরকার নির্ধারিত কোনো দাম না থাকায় যে যার মতো দামে বিক্রি করে মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা লুটে আসছিল। তবে আশার কথা হলো, সরকার গত সোমবার এ জ্বালানিটির দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। এখন এ দামের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নই সবার প্রত্যাশা।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘এলপিজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ দাম ৯৭৫ টাকা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি মাসে সরকারি এলপিজির ১২ কেজি বোতলের দাম হবে ৫৯১ টাকা। বেসরকারি এলপিজির দাম হবে ৯৭৫ টাকা।

এমন দাম নির্ধারণ করে দেয়া নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এতে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন ভোক্তারা। আর বাজারে একাধিক এলপিজি সরবরাহকারী থাকায় একটি প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এতে ভোক্তারা নির্ধারিত সর্বোচ্চ দামের চেয়েও কম মূল্যে এলপিজি কিনতে পারবেন বলে বিশ্বাস। আর এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাজার পর্যবেক্ষণ করা। এক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দেশের ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ এখনও গ্রামে বসবাস করেন। আর গ্রামীণ জনগোষ্ঠী রান্নার কাজে প্রধানত বিভিন্ন গাছ ও অন্যান্য উপকরণ থেকে প্রাপ্ত লাকড়ি ব্যবহার করেন। এর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়ার কারণে একদিকে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে রান্নার কাজে নিয়োজিতদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে। তাই ধীরে ধীরে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকেও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহারে অভ্যস্ত করে তোলা জরুরি। কিন্তু এলপিজির দাম যদি হাতের নাগালে না থাকে, তাহলে গ্রামের মানুষ তা ব্যবহারে উৎসাহী হবেন না। এ কারণে সাশ্রয়ী মূল্যে এলপিজির বাজারজাত নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাম নির্ধারণের মাধ্যমে সরকার এক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন প্রয়োজন এ দামের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। সরকার এ দাম নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..