প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

এলপিজি আমদানিতে কর অব্যাহতি পেলো বেক্সিমকো গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার আমদানির ওপর বেক্সিমকো গ্রুপের ভ্যাট অব্যাহতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সনাতন সিলিন্ডারের চেয়ে অনেকাংশে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার আমদানির ভ্যাটে ছাড় চাইলে এনবিআরের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়।

গত রোববার রাজস্ব বোর্ড পণ্য আমদানিকারকদের ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধের এক সংবিধিবদ্ধ আদেশ দেয়। তবে উল্লিখিত অব্যাহতি আদেশ শুধু ৫০০ লিটারের কম যৌগিক এলপিজি সিলিন্ডাররে ক্ষেত্রে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রযোজ্য।

পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহার কমিয়ে আনতে আবাসিকে নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। শিল্প সংযোগও সংকুচিত। পরিবহন খাতেও সিএনজির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এলপিজি। ২০১৮ সালের মধ্যে দেশের গৃহস্থালি জ্বালানি চাহিদার ৭০ শতাংশ এলপি গ্যাস দিয়ে মেটানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দেশে এলপিজির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ১৫ শতাংশ ভ্যাটের মধ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) এবং অতিরিক্ত ৪ শতাংশ ভ্যাট, আমদানি করা এলপিজি সিলিন্ডারে এবং ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপক হারে ব্যবহৃত লোহা ও স্টিলের কনটেইনারে ভ্যাট প্রদানে এনবিআর কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।

গত বছরের নভেম্বরে বেক্সিমকো নরওয়ের কোম্পানি হেক্সাজন র‌্যাগাসকোনের সঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডার আমদানির ব্যাপারে একটি চুক্তি সই করে। চার বছর মেয়াদি এ চুক্তি স্বাক্ষরে উভয় কোম্পানির বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন সিলিন্ডার।

জানা গেছে, এলপিজির বেশি দামের পেছনে বড় কারণ হলো চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি। সরকারি-বেসরকারি হিসাবে বর্তমানে দেশে এলপি গ্যাসের চাহিদা বছরে অন্তত সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন। চাহিদার বিপরীতে সরকারি ও বেসরকারি সব কোম্পানি মিলে বছরে সরবরাহ করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকার এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠানকে এলপি গ্যাস আমদানি, সিলিন্ডারজাত ও বিপণনের লাইসেন্স দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০টি কোম্পানি এখনও কোনো কার্যক্রম শুরু করেনি। আর ২০টি কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। যেসব কোম্পানি এলপিজি আমদানি ও বাজারজাত করছে, তারাও তাদের সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলপি গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে ‘এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট স্থাপন নীতিমালা ২০১৬’ প্রণয়ন করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), যা বিদায়ী বছরের জুনে গেজেট হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন নীতিমালায় এলপিজি আমদানি ও রফতানি উভয় সুযোগই রাখা হয়েছে। এর আগে শুধু এলপিজি আমদানির সুযোগ ছিল।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও জীবাশ্ম জ্বালানির সীমিত মজুদের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যতের জ্বালানি সমস্যা সমাধানে এলপিজি সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য সম্ভাবনাময় উৎস।

এছাড়া জ্বালানি বিভাগ একটি কর্মকৌশলও প্রণয়ন করেছে, যাতে ২০১৮ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ বাসাবাড়িতে এলপিজি সরবরাহের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।