মত-বিশ্লেষণ

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণে ভোক্তা স্বার্থ সুরক্ষা জরুরি

এসএম নাজের হোসাইন: আধুনিক নগরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে জনসাধারণ তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারে রান্নার ব্যবহারে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছে। এই সুযোগে অনেক বহুজাতিক কোম্পানি ও দেশীয় বৃহৎ করপোরেট গ্রুপ এই এলপিজি ব্যবসায় দ্রুতই নেমে পড়েছে। যেহেতু সাধারণ মানুষ এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে, তাই এই সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন অজুহাতে তারা সিলিন্ডারের দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়ে আরেকটি ভোগান্তি তৈরি করে। দাম বাড়ানোর সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বেশি, বিতরণকারী ডিলারদের কারসাজি প্রভৃতি নানা উত্তর জুড়ে দেয় তারা। আর কক্সবাজার জেলায় গ্রাহকদের এই যন্ত্রণার কথা শুনে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিতরণকারী ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়ে। তারা একযোগে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ করে দেয়। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাদের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার আশ্বাসে আবার বিক্রির কাজ শুরু করে। দেশব্যাপী যখন ভোক্তারা এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সম্মুখীন, তখন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) প্রথমে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) লিখিত আবেদনে গণশুনানির আয়োজন করে মূল্য নির্ধারণের দাবি জানায়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ক্যাবের আবেদন আমলে নেয়া হয়নি। ক্যাব বাধ্য হয়ে উচ্চ আদালতের হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয় এবং গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য নির্ধারণে জনস্বার্থে রিট করে। হাইকোর্ট এক মাসের মধ্যে গণশুনানির আয়োজন করে মূল্য নির্ধারণের নির্দেশনা দেন। এ নির্দেশনা পেয়ে বিইআরসি একটু নড়েচড়ে বসে।

হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালন না করায় এবং আদেশ অবমাননার দায়ে বিইআরসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্যাব হাইকোর্টে গত ২৯ নভেম্বর আরেকটি মামলা করে। পরবর্তী সময়ে বিইআরসির চেয়ারম্যান হাইকোর্টের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান এবং গণশুনানির ভিত্তিতে এলপিজির মূল্যহার নির্ধারণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। গত ১৪, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশ্ন হলো বিইআরসি কার স্বার্থ রক্ষা করবেÑভোক্তা না ব্যবসায়ী? ক্যাব বিভিন্ন সময় বিইআরসিকে এলপিজি ব্যবসায়ী কর্তৃক অবৈধভাবে এলপিজির মূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিইআরসি আইনের ২২(খ), ৩৪, ৪০ ও ৪৩ ধারার আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য  আবেদন করে, কিন্তু বিইআরসি নির্বিকার। গত বছর ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট গণশুনানির ভিত্তিতে এলপিজির মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করে ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে দাখিল করার জন্য আদেশ দেন। সেই আদেশ বলবৎ থাকা সত্ত্বেও এলপিজি কোম্পানিগুলো এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি করে নিজেরাই পুনর্নির্ধারণ করেছে। ফলে মূল্য বৃদ্ধি এবং এ মূল্য বৃদ্ধিতে জড়িত লাইসেন্সিদের লাইসেন্স বাতিল করাসহ তাদের বিরুদ্ধে বিইআরসি আইনের ৪৩ ধারামতে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। বিইআরসি নিষ্ক্রিয় থাকায় হাইকোর্টের আদেশ অকার্যকর থাকে। ফলে বিইআরসি আদালত অবমাননা করে।

গণশুণানিতে সরকারি কোম্পানির এলপিজির দাম বেসরকারি খাতের চেয়ে বেশি করার প্রস্তাব করা হয়। এমনিতেই রাষ্ট্রায়ত্ত খাত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে আছে। বেসরকারির চেয়ে দাম বেশি হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সিলিন্ডার বাজারে বিক্রি হবে না, যেটি আমরা দেখি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল টেলিটক কোম্পানির ক্ষেত্রে। তারা বেসরকারি খাতের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। বেসরকারি মালিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাম বাড়াতে চাপ দিতে পারেন। মাঝেমধ্যে শোনা যায়, খোদ কমিশনই দাম বাড়ানোর পক্ষে। কিংবা কমিশন নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করে না, সেজন্য ভোক্তাদের আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হতে হয়। এর আগে গণশুনানিতে দাম বৃদ্ধির বিরোধিতা থাকলেও বিইআরসির সিদ্ধান্ত কোম্পানিগুলোর অনুকূলে গেছে বলে তারা বিরোধিতা করেনি। ভোক্তাদের অভিযোগ, আগেই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে গণশুনানি হলে তা দুঃখজনক। বেসরকারি ও সরকারি পর্যায়ে সমতা বিরাজে সরকারি কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তা না হলে বাজার অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠবে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জন এবং বেসরকারি পক্ষের সঙ্গে কোনো আঁতাত করছে কি না, তাও বিইআরসিকেও বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ ঠিক একই প্রক্রিয়ায় বেসরকারি চিনি পরিশোধন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারি চিনি কলগুলোর আঁতাতের কারণে দেশীয় চিনি অবিক্রীত এবং কোম্পানিগুলো লোকসানে জর্জরিত।

ক্যাব বারবার বলে আসছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক প্রণীত, ‘এলপি গ্যাস অপারেশনাল লাইসেন্সিং নীতিমালা, ২০১৭’ অনেক ক্ষেত্রেই ‘বিইআরসি আইন, ২০০৩’-এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও পরস্পরবিরোধী। হাইকোর্টের আদেশ, বিইআরসি আইন ও প্রক্রিয়াধীন প্রবিধানমালাগুলোর সঙ্গে এলপিজির মূল্যহার নির্ধারণকারী ওই ফর্মুলা বা পদ্ধতি অসংগতিপূর্ণ। আর জ্বালানি বিভাগের ওই নীতিমালামতে, এলপিজির মূল্যহার নির্ধারণ পদ্ধতি প্রণয়ন বিইআরসি আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও পরস্পরবিরোধী।

আইনি বৈধতার প্রশ্নে এই ফর্মুলা এবং বিইআরসি কর্তৃক গঠিত ফর্মুলা প্রণয়নকারী কমিটি ও কমিটি কর্তৃক এলপিজির প্রস্তাবিত মূল্য নির্ধারণ ফর্মুলা বা পদ্ধতির ব্যাপারে ক্যাব আনুষ্ঠানিক আপত্তি বারবার জানিয়ে আসছে। অথচ বিইআরসির ক্যাবের এই আপত্তির বিষয়টি কোনোভাবেই আমলে নিচ্ছে না। মূল্যহার নির্ধারণ পদ্ধতি প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হতে হবে। সে প্রবিধান প্রণয়নের এখতিয়ার বিইআরসি আইনমতে, বিইআরসির। আর বিইআরসি কর্তৃক প্রণীত এলপিজির মূল্যহার নির্ধারণ-সংক্রান্ত সে প্রবিধানমালা ২০১২ সাল থেকে জ্বালানি বিভাগ আটকে রেখেছে। তাছাড়া বিইআরসি আইন উপেক্ষা করে ‘এলপি গ্যাস অপারেশনাল লাইসেন্সিং নীতিমালা, ২০১৭’ প্রণয়ন করে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি প্রণয়নের ক্ষমতা জ্বালানি বিভাগ নিজে গ্রহণ করে বিইআরসি আইন ও বিইআরসির নিয়ন্ত্রক ক্ষমতাকে পরিকল্পিতভাবে অকার্যকর করেছে।

ক্যাবের গত বছরের ১৩ জানুয়ারি দায়েরকৃত আরেকটি রিট মামলায় এলপিজি সিলিন্ডারের গায়ে মূল্য লেখার আদেশ দেয়া হয়। হাইকোর্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে সেই আদেশ বাস্তবায়নের আদেশ দেন। সেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বিইআরসি এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাখা রয়েছে, কিন্তু বিপিসিকে রাখা হয়নি। যদিও জ্বালানি বিভাগ বিপিসিকে সে আদেশ বাস্তবায়নে তাগিদ দিলেও তা আজ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।

এলপিজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মূল্যহার নির্ধারণ করে ব্যয় বিশ্লেষণ নীতির ভিত্তিতে। এলপিজি সরবরাহের বিভিন্ন পর্যায়ে যে ব্যয় সংযোজন হয়, তা ন্যায্য ও যৌক্তিক কি না, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ। বেসরকারি এলপিজি কোম্পানির প্রস্তাবে দেখা যায়, যেসব ব্যয় সংযোজনে সিলিন্ডারে ১২ কেজি এলপিজি সরবরাহ ব্যয় ২০১৯ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে এক হাজার ২৫ টাকা ও এক হাজার ৬০ টাকা দেখানো হয়েছে, তার পক্ষে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা দরকার। আমদানি পর্যায়ে ২০২০ সালে এলপিজির ক্রয়মূল্য (সিপি) গড়ে টনপ্রতি ৪১৯ দশমিক ৫১ ডলার ধরা হয়েছে, যা তথ্যনির্ভর নয়। ভারতের হলদীয়া বন্দরে প্রতি টন এলপিজির জাহাজভাড়া বাবদ ব্যয় ৪০-৫০ ডলার হলে মোংলা/চট্টগ্রাম বন্দরে সে ব্যয় ১২০ ডলার তথ্য-প্রমাণ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়। তিন ধাপে ভ্যাট সংযোজন করা হয়। আলোচ্য ক্ষেত্রে ভ্যাট বাবদ ব্যয় ৪২ টাকা ধরার যৌক্তিক ভিত্তি প্রস্তাবে পাওয়া যায়নি। এলপিজি সাপ্লাই চেইনে কস্ট পয়েন্ট ওয়াইজ ব্যয় সঠিক কি না, তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তথ্য-প্রমাণও আবশ্যক। সে কারণে সিলিন্ডারপ্রতি এলপিজির উল্লিখিত সরবরাহ ব্যয় এবং ব্যয় বিশ্লেষণ যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য নয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয়, সরকারি এলপি গ্যাস লিমিটেডের লোকসান, বেসরকারি কোম্পানির এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি প্রভৃতি বিবেচনা করে সরকারি এলপি গ্যাস লিমিটেড ১২ দশমিক পাঁচ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। সিলিন্ডারপ্রতি রাজস্ব চাহিদা নির্ধারণ ব্যতীত এমন প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এলপিজির আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, কিংবা বেসরকারি কোম্পানির এলপিজির মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে বাস্তবে এলপি গ্যাস লিমিটেডের এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি সম্পর্কহীন। তারই ধারাবাহিকতায় এলপিজি মূল্য নির্ধারণে সম্প্রতি রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি। কমিশন একটি গ্রহণযোগ্য দাম নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছে, এক সপ্তাহের মধ্যে সবাই শুনানি-পরবর্তী লিখিত মতামত জানাতে পারবেন। এরপর ছোট পরিসরে একটি মতবিনিময় সভার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সবার স্বার্থ সুরক্ষা করে এলপিজির দাম ঘোষণার আদেশ দেয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে গণশুনানিতে। শুনানিতে এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব ও কারিগরি কমিটির মূল্যায়ন নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেন।

পত্রপত্রিকার এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গৃহস্থালি রান্নার কাজে ব্যবহƒত এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ২৫৯ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলো। আর সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার কথা বলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এলপি গ্যাস লিমিটেড (এলপিজিএল)। বিইআরসি গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বেসরকারি খাতে ৮৬৬ টাকা ও সরকারি খাতে এলপিজিএলের দাম ৯০২ টাকা করার সুপারিশ করেছে, যা কার্যত অগ্রহণযোগ্য।

নিরাপদ ও টেকসই জ্বালানির অধিকার প্রতিটি নাগরিকের একটি অন্যতম মৌলিক অধিকার। সে কারণে সরকার এলপি গ্যাস লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করে। সরকারের এই উদ্যোগে জ্বালানি খাতে প্রতিযোগিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হয়েছিল। সরকারি এলপি গ্যাস লিমিটেড কোম্পানিসহ বর্তমানে দেশে এলপিজি আমদানি, মজুত ও বিতরণের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে ২৯টি প্রতিষ্ঠান। এলপিজি ব্যবহারের পরিমাণ বার্ষিক ১০ লাখ টন, যার ৯৮ শতাংশেরই জোগান দেয় বেসরকারি খাত। দুই শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা সম্ভব নয় বৈকি। তাই সরকারি শেয়ার বৃদ্ধি জরুরি। বেশি মার্কেট শেয়ার থাকায় বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মূল্য নির্ধারণে বেসরকারি খাত দর কষাকষি করবে। বিইআরসির গণশুনানি-পরবর্তী কারিগরি কমিটির লিখিত মতামত ও ভোক্তাদের পক্ষ থেকে ক্যাবের সুপারিশগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে এলপি গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ করা হলে ভোক্তারা উপকৃত হবে। সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুষ্ঠু ও টেকসই জ্বালানি খাত গড়ে তোলা দরকার। একই সঙ্গে যৌক্তিক দামে গ্যাস সরবরাহ ও ন্যায্য অনুশীলনের মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় তাদের সন্তুষ্টি অর্জন অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, যেখানে ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সে ধরনের সুরক্ষা থাকা উচিত এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিইআরসি একতরফাভাবে নীরব ও নিষ্ক্রিয় থাকবে না। জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে বিইআরসি জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করবে না, এটাই প্রত্যাশা।

ভাইস প্রেসিডেন্ট

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)

[email protected]

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..