সম্পাদকীয়

এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম যেন যৌক্তিক হয়

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে গণশুনানি করে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কমিশন একটি গ্রহণযোগ্য দাম নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছে, এক সপ্তাহের মধ্যে সবাই শুনানি-পরবর্তী লিখিত মতামত জানাতে পারবেন। এরপর ছোট পরিসরে একটি মতবিনিময় সভার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সবার স্বার্থ সুরক্ষা করে এলপিজির দাম ঘোষণার আদেশ দেয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে গণশুনানিতে। শুনানিতে এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব, কারিগরি কমিটির মূল্যায়ন নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করে। হাইকোর্টের আদেশে এলপিজির মূল্য পুনর্র্নির্ধারণে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গৃহস্থালি রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ২৫৯ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলো। আর সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার কথা বলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এলপি গ্যাস লিমিটেড (এলপিজিএল)। বিইআরসি গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বলছে, বেসরকারি খাতে ৮৬৬ টাকা ও সরকারি খাতে এলপিজিএলের দাম ৯০২ টাকা করা যেতে পারে।

বেসরকারি খাতের চেয়ে সরকারি কোম্পানির এলপিজির দাম বেশি করার প্রস্তাবও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করি। এমনিতেই রাষ্ট্রায়ত্ত খাত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে। বেসরকারির চেয়ে দাম বেশি হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সিলিন্ডার বাজারে বিক্রি হবে না বলেই ধারণা। বেসরকারি মালিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাম বাড়াতে চাপ দিতে পারে। মাঝেমধ্যে শোনা যায়, খোদ কমিশনই দাম বাড়ানোর পক্ষে। কিংবা কমিশন নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করে না। এজন্য ভোক্তাদের আইনের আশ্রয় নিতে হয়। এর আগে শুনানিতে দাম বৃদ্ধির বিরোধিতা থাকলেও বিইআরসির সিদ্ধান্ত কোম্পানিগুলোর অনুক‚লে গেছে বলেও প্রতীয়মান হয়েছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, আগেই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে গণশুনানি হলে তা দুঃখজনক। সরকারি কোম্পানির উৎপাদন-সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তা না হলে বাজার অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী না হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠবে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি বিইআরসিকেও বিবেচনায় রাখতে হবে।

সরকারি কোম্পানিসহ বর্তমানে দেশে এলপিজি আমদানি, মজুত, বিতরণের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে ২৯টি প্রতিষ্ঠান। এলপিজি ব্যবহারের পরিমাণ বার্ষিক ১০ লাখ টন, যার ৯৮ শতাংশেরই জোগান দেয় বেসরকারি খাত। দুই শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ‚মিকা রাখা সম্ভব নয় বৈকি। বেশি মার্কেট শেয়ার থাকায় বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মূল্য নির্ধারণে বেসরকারি খাত দর কষাকষি করবে। শুনানি-পরবর্তী লিখিত মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হবে বলে আশা করি। সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুষ্ঠু ও টেকসই জ্বালানি খাত গড়ে তোলা এবং যৌক্তিক দামে গ্যাস সরবরাহ এবং ন্যায্য অনুশীলনের মাধ্যমে ভোক্তাদের সুরক্ষা তাদের সন্তুষ্টি অর্জন। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..