প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

এশিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিয়ে সন্দিহান

চীন, জাপান ও কোরিয়ার অর্থমন্ত্রীরা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থমন্ত্রীরা কভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানের কারণে বিপর্যস্ত অর্থনীতির পুনরুদ্ধার নিয়ে সন্দিহান। তিন দেশের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা এশিয়া মহাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং বাজারের স্থিতিশীলতা ও সুপ্ত রাজস্বনীতি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। খবর: চ্যানেল নিউজ এশিয়া।

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অপ্রত্যাশিতভাবে নির্দিষ্ট সময়ের আগে কয়েকটি উন্নত দেশের সুদহার বেড়ে যাওয়া নিয়ে সতর্ক করেছেন। বিবৃতিতে তারা জানান, সুদহার বেড়ে যাওয়ার কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের পর বিবৃতি দেয়া হয়। এর আগে তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের আঞ্চলিক জোট অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশনসের (আসিয়ান) নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন।

জাপানি, চীনা ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন এ অনুষ্ঠানে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তারা। বিশেষ করে আর্থিক বাজারের স্থিতিশীলতা ও আর্থিক স্থায়িত্ব নিয়েও নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।

‘আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যে উচ্চঝুঁকি রয়েছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের সতর্ক হতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে চলমান রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং কয়েকটি উন্নত দেশের অপ্রত্যাশিত আর্থিক নীতি,’ বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। ‘এসব বিষয় আঞ্চলিক অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলেছে এবং অর্থবাজার ও মূলধন প্রবাহ ভঙ্গুর করে তুলেছে।’ এই বিবৃতিতে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ বা ফেডের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, ব্যাংকটি সুদহার বাড়িয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সেবার মান বাড়িয়েছে। এ কারণে ডলারের দাম বেড়েছে। এতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোয় ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয় এবং বিশেষ করে বিদেশি ঋণ নেয়া দেশগুলো ঝুঁকিতে পড়ে।

কর্মকর্তারা মুদ্রাবাজারের এ পরিস্থিতির স্পষ্ট রেফারেন্স তুলে ধরেন। বিশেষ করে ডলারের মানোন্নয়ন এবং ইয়েনের পতন নিয়ে আলোচনা করেন তারা। এছাড়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে শুরু হওয়া রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ এবং এতে বিশ্ব অর্থনীতির যে টালমাটাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তা উল্লেখ করেন তারা। দুই দেশের দ্বন্দ্বে বিশ্বের প্রায় সব দেশের জ্বালানি তেল, গ্যাসসহ গম ও অন্য খাদ্যশস্যের দাম বেড়ে গেছে। তাছাড়া যুদ্ধটি ক্রমান্বয়ে অর্থনৈতিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। অভিযান শুরু করার পর রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়াও সম্প্রতি ওই দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষ এবং এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)। এবার সংস্থাটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। তবে জি২০ দেশগুলোর সবাই রাশিয়ার বিপক্ষে যায়নি। এ  দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

এ কারণে বক্তারা আঞ্চলিক পর্যায়ে অর্থনীতির ভিত মজবুত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করতে চান, যাতে আর্থিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয় দরিদ্র দেশগুলো। এ প্রসঙ্গে তারা আসিয়ান দেশগুলোর ‘চিয়াং মাই ইনিশিয়েটিভ মাল্টিল্যাটার‌্যালাইজেশন (সিএমআইএম)’ মুদ্রানীতি বা চুক্তি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। আসিয়ানে বর্তমান চেয়ার কম্বোডিয়া। এর অন্যতম সদস্য ইন্দোনেশিয়া জি২০ দেশগুলোরও সদস্য।