বিশ্ব বাণিজ্য

এশিয়ার উৎপাদনমুখী কার্যক্রমে শ্লথগতি

শেয়ার বিজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ এবং বৈশ্বিক চাহিদা হ্রাসের প্রভাব পড়েছে উৎপাদনমুখী কার্যক্রমে। গত মাসে এশিয়ার প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোর ম্যানুফ্যাকচারিং কার্যক্রম এবং পারচেজিং ম্যানেজার ইনডেক্স (পিএমআই) ফের কমেছে। খবর : ইকোনমিক টাইমস।

প্রতিবেদন মতে, গত অক্টোবর মাসে উত্তর এশিয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং কার্যক্রম তিন মাসের মধ্যে সর্বনি¤েœ পৌঁছেছে। নতুন ক্রয়াদেশ ও উৎপাদন এ সময়ে কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশ্বব্যাপী চাহিদা কমায় চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের উৎপাদন কার্যক্রম কমেছে। মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং উৎপাদন কমেছে। দেশ দুটির পিএমআই গত চার বছরের মধ্যে সর্বনি¤েœ পৌঁছেছে। ভিয়েতনামের কার্যক্রমও স্থিতিশীল রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া (ব্রেক্সিট) নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিশ্বব্যাপী চাহিদায় ভাটা পড়েছে। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমাচ্ছে। গত বুধবার তৃতীয়বারের মতো সুদের হার কমিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদের হার কমিয়েছে। জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনও সুদের হার না কমালেও শিগগির কমাবে বলে জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস সম্প্রতি এশিয়ান টাইগার-খ্যাত চারটি দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিষয়ে সংশোধিত পূর্বাভাস দিয়েছে। নতুন পূর্বাভাসে বৈশ্বিক বাণিজ্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এসব দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম কমবে, এমন আশঙ্কায় পূর্বঘোষিত প্রবৃদ্ধির মাত্রা পরিবর্তন করা হয়।

মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংকটির প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা আন্ড্রু টিল্টন প্রতিবেদনে জানান, ‘বিশ্ববাণিজ্যের সঙ্গে দৃঢ় সম্পৃক্ততা এতদিন এসব দেশের মূল অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। নিজস্ব অর্থনীতির সংস্কারের পাশাপাশি বিশ্বায়ন এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি হংকং, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। কিন্তু, এই সম্পর্কের নেতিবাচক দিকও রয়েছে। বাণিজ্য সংঘাত এবং এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিকাশ কমে আসায় এ দেশগুলোতেই প্রভাব পড়ছে।’

৮০ এবং ৯০-এর দশকে বিশেষজ্ঞরা দ্রুতগতির বিকাশের জন্য হংকং, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানকে এশিয়ান টাইগার উপাধি দেন। বাণিজ্য সংঘাতে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে চীনের বাহিরে কারখানা স্থাপন করায় চীনের সঙ্গে স্থল সংযোগ রয়েছে ভিয়েতনামের মতো এমন কিছু দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারিত হবে। যদিও সেই সুফল আলোচিত চার টাইগার ইকোনমি পাচ্ছে না।

সংশোধিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চীনের স্বশাসিত ভূখণ্ড হংকংয়ের জিডিপি চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্ত শেষে আগের বছরের একই মেয়াদের তুলনায় দশমিক পাঁচ শতাংশ কমবে। এর আগে গোল্ডম্যান স্যাকস দুই দশমিক এক শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করেছিল।

২০১৯ সালে সিঙ্গাপুরের মোট উৎপাদন ও সেবার প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দশমিক চার শতাংশ করা হয়। এর আগে নগর রাষ্ট্রটির অর্থনীতি এক দশমিক এক শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

সর্বশেষ..