বিশ্ব সংবাদ

এশিয়ার পুঁজিবাজারে সূচক আট মাসে সর্বনিম্ন

বেইজিংয়ের বিধিনিষেধ ও ওয়াল স্ট্রিটের তহবিল সংগ্রহ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চীনা স্টক এক্সচেঞ্জে বেইজিংয়ের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পুঁজিবাজার ওয়াল স্ট্রিট দেশটির করপোরেট মার্কেট থেকে তহবিল সংগ্রহ করার ঘোষণা দেয়ায় এশিয়ার পুঁজিবাজারের পতন হয়েছে। গতকাল সোমবার এশিয়া অঞ্চলের বেশিরভাগ স্টকেই সূচকের অবনতি হয়েছে। খবর: রয়টার্স।

অন্য দেশের স্টক মার্কেটে আইপিও ছাড়ার ক্ষেত্রে চীন সরকার সম্প্রতি সে দেশের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কঠোর বিধি আরোপ করে। এছাড়া বিশেষকরে ই-কমার্স জায়ান্টগুলোকে চীনা স্টকে প্রবেশেও কঠোর নিয়মকানুন মেনে চলতে বাধ্য করে চীন কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড কতৃক যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট প্রতিষ্ঠান থেকে ওয়াল স্ট্রিটের মাধ্যমে মূলধন তথা তহবিল সংগ্রহ করার ঘোষণা দেয়। এ পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার এশিয়ার স্টক মার্কেটে সূচকের ব্যাপক অবনতি হয়।

চীনের ব্লু চিপ-খ্যাত স্টক মার্কেট সিএসআই ৩০০ সূচক চার দশমিক চার শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সর্বনি¤œ। এটি ছিল দৈনিক সূচক হ্রাসের ক্ষেত্রে এক বছরেরও বেশি সময়কালে সবচেয়ে বেশি দৈনিক হ্রাস। কারণ সরকারি কঠোর নিয়মকানুনের ফলে বাণিজ্যিক শিক্ষা ও সম্পত্তি খাত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।  

এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান নোমুরার অর্থনীতিবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি নোটে লিখেছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সম্পত্তি খাতের ক্ষেত্রে চীনের নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে চীনের অর্থনীতি বিশেষত এর আর্থিক ব্যবস্থা সামনের মাসগুলোয় উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিতে পড়বে।’

এদিকে জাপানে রাইরে এমএসসিআই’স ব্রডকাস্ট সূচকে এশিয়া প্যাসিফিকের শেয়ারদর দুই শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা গত ডিসেম্বের থেকে সর্বনি¤œ। অন্যদিকে জাপানের নিক্কি এন ২২৫ সূচক শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে এটিও ছিল সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নাসডাক ফিচারস এনকিসি ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ সূচক থেকে শূন্য দশমিক এক শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক শূন্য দশমিক তিন শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এবং ইউরোস্টোক্স ৫০ এবং এফটিএসই ফিচারস উভয় সূচক শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ফেসবুক, টেসলা, অ্যাপল, আলফাবেট, গুগল, মাইক্রোসফট, আমাজনসহ এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর এক-তৃতীয়াংশ তালিকাভুক্ত কোম্পানি চলতি সপ্তাহে ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর এক-পঞ্চমাংশ তথা ৮৮ শতাংশ কোম্পানি চলতি প্রান্তিকে মুনাফা অর্জন করতে পারবে না। এর প্রধান কারণ হলো গ্লোবাল মানি ম্যানেজার’স তথা এ কোম্পানিগুলো ২০২১ সালের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রে তহবিলে ৯০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ জোগান দিয়েছে, যা ওয়াল স্ট্রিটের মাধ্যমে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ আদায় করে।

এ বিষয়ে ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ বাজার অর্থনীতিবিদ অলিভার জোন্স বলেন, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আয়ের পরিমাণ কভিড মহামারির আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপির ফল প্রকাশ করা হবে। ধারণা করা হ্েছ সেখানে জিডিপি হার আট দশমিক ছয় শতাংশ দেখানো হবে, যদিও ফেড ধারণা করেছিল তিন দশমিক সাত শতাংশ হবে। 

আগামী মঙ্গল ও বুধবার ফেডের ত্রৈমাসিক সভা রয়েছে। সেখানে মুদ্রানীতির কোনো পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়েছেন ফেড চেয়ার জ্যানেট পাওয়ায়েল।

এদিকে বৈশ্বিক তেলের চাহিদা বাড়ায় গত সপ্তাহে তেলের দামে ছিল ঊর্ধ্বগতি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান বৃহৎ তেল কোম্পানিগুলো চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। ধারণা করা হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের তারা বড় মুনাফা উপহার দেবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..