Print Date & Time : 6 December 2020 Sunday 4:49 am

এসএমইতে এক অঙ্কের সুদে ঋণ দিতে নারাজ ব্যাংক উদ্যোক্তারা

প্রকাশ: January 14, 2020 সময়- 12:52 am

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকঋণে এক অঙ্ক সুদহার বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১ এপ্রিল থেকে এটি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। কিন্তু গতকাল তারা দাবি করেছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানে (এসএমই) ৯ শতাংশ সুদ কার্যকর না করার।

গতকাল অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ দাবি করেন বিএবি নেতারা। ফাইন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ইয়ার পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় অর্থমন্ত্রীকে সংবর্ধনাটি দেওয়া হয় বিএবির পক্ষ থেকে।

এ সময় বিএবির পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের ঋণে ৯ শতাংশ সুদহার বাস্তবায়িত হলে এনজিওদের ভূমিকা কী হবে? তারা তো এ খাতে বেশি সুদে ঋণ দিচ্ছে।

এসএমইতে ৯ শতাংশ না রাখার দাবির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটার পর একটা সুবিধা পেলে ব্যাংক উদ্যোক্তারা আরও অনৈতিক সুবিধা দাবি করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংগঠনটি আরও জানায়, দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পুনঃতফসিল করার সিদ্ধান্ত যুগোপযোগী। এতে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে আসবে, আদায় বৃদ্ধি পাবে। এটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত বলেও জানান তারা।

অবশ্য অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংকঋণে এক অঙ্ক সুদহার বাস্তবায়নে কোনো ব্যত্যয় যেন না হয়। ব্যাংক, বিমা ও সেবাসহ প্রতিটি খাতেই সেবা দিতে হবে। যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে তাদের সাহায্য করা হবে। সরকারের সামনে যে সম্পদ আছে তার পুরোপুরি ব্যবহার করা হবে। অর্থনীতির মূল স্রোতধারায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অনুষ্ঠানে খেলাপি ঋণ কমাতে অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জামালুদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের দেওয়া প্রণোদনার কারণেই প্রবাসী আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ব্যাংক খাত সংস্কারে অর্থমন্ত্রীর নেওয়া পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সতর্ক হতে হবে।

এদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার পদধ্বনির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে এখন টানাপড়েন চলছে। বিভিন্ন কারণে স্বাভাবিক অবস্থা নেই। অর্থনীতিতে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এলেও আমার সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। কারণ এগুলো প্রতিটি একেকটা সুযোগ। বাংলাদেশিদের সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, খেলাপি ঋণ কেন বেশি, তা নিয়ে বারবার সংসদে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। এ থেকে বের হতে কোনো পদক্ষেপও আগে ছিল না। বর্তমানে আদালতে মামলা আছে ৬৩ হাজার। এ থেকে বের হতে ভৌত অবকাঠামো তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো সেবা দিতে পারে না এটি না পারলে কীভাবে কমবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। এক ব্যাংক যেন আরেক ব্যাংকের গ্রাহককে অনৈতিকভাবে ভাগিয়ে নিয়ে না আসে। এই অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকগুলোকে পরিচালন ব্যয় কমাতে হবে। বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের দেশের ব্যাংকের অবস্থান ভালো। ব্যাসেল-৩ মিট করা সম্ভব হয়েছে।

পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে অর্থনীতির কোনো মিল নেই, মনে হয় যেন বিছিন্ন দ্বীপ।