প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

এসএমই ঋণ বাড়াতে শর্ত শিথিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে শর্ত শিথিল করে এ খাতের জন্য পূর্ণাঙ্গ একটি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসএমই ঋণ মোট ঋণের অন্তত ২৫ শতাংশে উন্নীত করতে বাড়তি সময় পাচ্ছে। আগের নির্দেশনায় প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এসএমই ঋণ ২০২১ সালের মধ্যে তাদের বিতরণ করা ঋণের ২৫ শতাংশে উন্নীত করার বাধ্যবাধকতা ছিল। নতুন নির্দেশনায় এই শর্ত শিথিল করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ গত বৃহস্পতিবার কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) উদ্যোগের সংজ্ঞা এবং ঋণসীমা, এসএমই অর্থায়ন, নারী উদ্যোগ এবং পুনঃঅর্থায়নের ক্ষেত্রে এর আগে জারি করা সব সার্কুলার একত্র করে একটি মাস্টার সার্কুলার জারি করেছে।
জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬-এর আলোকে কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সংজ্ঞা এবং ঋণসীমা পুনর্নির্ধারণ করায় এসব ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ঋণ পোর্টফোলিওর বিভাজনও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। শুধু সময় বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ স্থিতির মধ্যে এসএমই খাতে ঋণের পরিমাণ প্রতিবছর এক শতাংশ হারে বাড়ানো অব্যাহত রাখতে হবে। এভাবে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ঋণের অন্তত ২৫ শতাংশ এসএমইতে উন্নীত করতে হবে। পাশাপাশি এ খাতে বিতরণ হওয়া ঋণের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দিতে হবে।
এছাড়া একটি টেকসই এসএমই খাত গঠনের লক্ষ্যে ২০২৪ সালের মধ্যে এ খাতের উৎপাদনশীল অংশে ৪০, সেবায় ২৫ ও ব্যবসায় সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের শেষ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের পূর্ববর্তী বছরে নিট ঋণ ও অগ্রিম স্থিতির ভিত্তিতে সিএমএসএমই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই বিভাগকে অবহিত করবে।
এতে বলা হয়, সিএমএসএমই অর্থায়নে প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আলাদা ব্যবসায়িক কৌশল প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকের চাহিদা ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতের ধরন অনুযায়ী ঋণ এবং আমানতের উদ্ভাবনীমূলক পণ্য উন্নয়ন ও বিপণন করতে হবে। প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিএমএসএমই কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এ অর্থায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, সিএমএসএমই’র কুটির উপখাতের উৎপাদনশীল শিল্পপ্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা ঋণ পাবে। মাইক্রো উপখাতের উৎপাদনশীল শিল্পপ্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা, সেবা শিল্প ৫০ লাখ ও ব্যবসা খাতের প্রতিষ্ঠান ২০ কোটি টাকা ঋণ পাবে। ক্ষুদ্র উপখাতের উৎপাদশীল শিল্প সর্বোচ্চ ২০ কোটি এবং সেবা ও ব্যবসা খাত পাঁচ কোটি টাকা করে ঋণ পাবে। আর মাঝারি উপখাতের উৎপাদনশীল শিল্প সর্বোচ্চ ৭৫ কোটি ও সেবা শিল্প সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা ঋণ পাবে।

সর্বশেষ..