সম্পাদকীয়

এসডিজি অর্জনের সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ নেন

২০০০ সালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন অভীষ্ট (এমডিজি) ঘোষণা করেছিল জাতিসংঘ। সেই অভীষ্টগুলো অর্জনে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে ছিল। তবে এমডিজির অভীষ্টগুলো ছিল বেশিরভাগই সামাজিক সূচকনির্ভর। এমডিজির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৫ সালে। ওই বছরই টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) ঘোষণা করে জাতিসংঘ। এমডিজিতে আটটি অভীষ্ট থাকলেও এসডিজিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭টি, আর এটির ব্যাপকতাও অনেক বেশি। যেসব সূচকের মাধ্যমে এসডিজি পরিমাপ করা হবে, সেসব সূচকের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তেরও ঘাটতি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এসডিজি অর্জন যে এমডিজি অর্জনের মতো সহজসাধ্য হবে না, তা বোঝাই যাচ্ছে।

বিষয়টি আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিল বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ও নাগরিক সংলাপকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গত বৃহস্পতিবার সংগঠনটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে জানানো হয়, এসডিজির অভীষ্টগুলো অর্জনে বাংলাদেশ সঠিক পথে নেই। এটি ভাবনার বিষয় বটে।

এসডিজি অর্জনের বিষয়ে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার রয়েছে, কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে জাতিসংঘের অধিবেশনে উপস্থিত থেকে এ উন্নয়ন অ্যাজেন্ডার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র প্রণয়নেও বাংলাদেশের ছিল অগ্রণী ভূমিকা। সে বিবেচনায় এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের নেতৃত্বের স্থানে থাকা উচিত বলে মনে করি। কিন্তু এসডিজি অর্জনে সরকার বেশকিছু ‘পলিসি ডকুমেন্ট’ প্রণয়ন করলেও এখন পর্যন্ত জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি এসডিজির অভীষ্টগুলো অর্জনে প্রতিবছর ৬৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পরিমাণে অতিরিক্ত অর্থায়ন দরকার হলেও সে অর্থায়ন নিশ্চিতে এখনও তেমন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বিশেষ করে এ অর্থের জোগান নিশ্চিতে বেসরকারি খাতের বড় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এসডিজি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে বেসরকারি খাতকে সেভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। এরই মধ্যে প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। বাকি আছে আর ১০ বছর। এসডিজি অর্জনে বর্তমানে যে কর্মতৎপরতা দেখা যাচ্ছে, সেই তৎপরতার মাধ্যমে এ বিশাল অভীষ্ট কতটা অর্জন করা যাবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ এসডিজি অর্জনের বিষয়ে এখনও কোনো আইনি কাঠামো দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি ৯২৮ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ যে অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রয়োজন হবে, তার নিশ্চয়তা বিধান এখনও হয়নি। শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়লেও গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুবিধা গ্রহণের উপযোগী জনবল সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে সব ধরনের দুর্বলতা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করি। আর সেটা করতে হলে সর্বস্তরের নাগরিকদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..