দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

এস আলম গ্রুপের পেঁয়াজ আমদানিতে ধীরগতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য গত ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রামের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ দপ্তর থেকে পাঁচটি ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) অনুমোদন নেয় এস আলম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোনালী ট্রেডার্স। প্রতিটি আইপির বিপরীতে ১১ হাজার টন করে মোট ৫৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির কথা ছিল। এর মধ্যে মাত্র এক হাজার টন পেঁয়াজ এসেছে দেশে। মিসর থেকে এ পেঁয়াজ আনার কথা ছিল।

এর বাইরে তুরস্ক থেকে আরও ৯ হাজার ৩৫০ টন পেঁয়াজ আমদানির আইপি সংগ্রহ করে দেশের ভোগ্যপণ্য বাজারজাতকারী শীর্ষস্থানীয় এ গ্রুপটি। তবে এ গ্রুপের তরফ থেকে কোনো পেঁয়াজ এখনও দেশে আসেনি। অর্থাৎ কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে এস আলম গ্রুপের পেঁয়াজ আমদানি।

যদিও গত এক মাসের বেশি সময় ধরে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এস আলম গ্রুপের পেঁয়াজ আমদানির কথা বলে আসছেন। এ পেঁয়াজ এলে দেশে পণ্যটির দামও কমবে বলে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছিল। তবে পেঁয়াজ না আসা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও আমদানি বিলম্বের কারণেই পেঁয়াজের অস্থিরতা কাটছে না। ফলে এখনও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি।

পেঁয়াজ আমদানির বিলম্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে এস আলম গ্রুপের বাণিজ্যিক মহাব্যবস্থাপক মো. আকতার হাসান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘এস আলম গ্রুপ প্রায় ৬০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির আইপি ইস্যু করেছে। এর মধ্যে ১০টা চার্টার্ড ফ্লাইটে এক হাজার টন পেঁয়াজ ঢাকায় পৌঁছেছে, যা টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার টন পেঁয়াজের শিপমেন্ট হয়েছে, যা ১০ বা ১২ ডিসেম্বরের পর প্রতিদিন ২০-৩০ কনটেইনার করে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে। পর্যায়ক্রমে আইপি করা সব পেঁয়াজ আসবে। তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন সাধারণত এলসি খোলার পর ৩০ থেকে ৩৫ দিন পর পণ্য আসে।’

এদিকে উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ আগ্রাবাদ স্টেশনের দেওয়া তথ্যানুসারে, গত ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত আটটি দেশ থেকে মোট এক লাখ ৩২৬ টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য ১৪০টি আইপি অনুমোদন দিয়েছে সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ স্টেশন। আর বিপরীতে ছয়টি দেশ থেকে মাত্র ১১ হাজার ৪৬০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। অর্থাৎ মোট আইপির বিপরীতে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে মাত্র ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

আমদানির অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ ২৪টি প্রতিষ্ঠান মোট ৭৭ হাজার ৬৬০ টন পেঁয়াজ আনার অনুমোদন পেয়েছিল। এর মধ্যে চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের মেসার্স সোনালী ট্রেডার্স নামের প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন পায়। প্রতিষ্ঠানটি মিসর থেকে ৫৫ হাজার টন ও তুরস্ক থেকে ৯ হাজার ৩৫০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নেয়। এছাড়া মেসার্স মনির এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে এক হাজার টন, মেসার্স সেতারা ট্রেডিং পাকিস্তান থেকে ৬০০ টন, মেসার্স সাউদার্ন ট্রেডিং মিসর থেকে ৬০০ টন ও চীন থেকে এক হাজার টন, সাতক্ষীরার মেসার্স নূর এন্টারপ্রাইজ পাকিস্তান থেকে ৫০০ টন, চট্টগ্রামের ওয়াসিফ ট্রেডিং চীন থেকে ৫০০ টন, মেসার্স সাইফুল স্টোর চীন থেকে ৫০০ টন, মেসার্স ইমতিয়াজ এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে ৫০০ টন, মেসার্স ফরহাদ ট্রেডিং পাকিস্তান থেকে ৫০০ টন ও তুরস্ক থেকে ৫০০ টন, মেসার্স আবুল বাশার অ্যান্ড স্টোর পাকিস্তান থেকে ৫০০ টন, মেসার্স বিএসএম সিন্ডিকেট চীন থেকে ৮০০ টন, তুরস্ক থেকে ৮৫০ টন ও নেদারল্যান্ডস থেকে ৭০০ টন, মেসার্স জিএস ট্রেডিং মিসর থেকে ৫০০ টন, ঢাকার ওয়াসিফ ট্রেডিং বেলজিয়াম থেকে এক হাজার টন, চট্টগ্রামের মেসার্স টিএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং মিসর থেকে ৫০০ টন, মেসার্স নোবায়েদ চীন থেকে ৫০০ টন, মেসার্স গুলিস্তান ট্রেডিং চীন থেকে ৬০০ টন, মেসার্স এএইচ এন্টারপ্রাইজ উজবেকিস্তান থেকে ২০০ টন, মেসার্স আবুল বাশার অ্যান্ড সন্স নেদারল্যান্ডস থেকে ১৮০ টন এবং মেসার্স কামাল ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড তুরস্ক থেকে ৭৮০ টন পেঁয়াজ আমদানির আইপি অনুমোদন পেয়েছিল।

এদিকে আইপির অনুমোদন পাওয়া এক লাখ ৩২৬ মেট্রিক টনের মধ্যে মিসর থেকে ৭২ হাজার ৩৫৪ টন, চীন থেকে ১৩ হাজার ২৭৩ টন, পাকিস্তান থেকে সাত হাজার ২৬১ টন, তুরস্ক থেকে তিন হাজার ৭১৮ টন, উজবেকিস্তান থেকে ২০০ টন, বেলিজিয়াম থেকে ২০০ টন, নেদারল্যান্ডস থেকে ৯২০ টন এবং শ্রীলঙ্কা (চায়না অরিজিন) থেকে এক হাজার ৬০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এর বিপরীতে মিসর থেকে পাঁচ হাজার ৪৫১ টন, চীন থেকে তিন হাজার ১২০ টন, মিয়ানমার থেকে এক হাজার ২২৮ টন, তুরস্ক থেকে এক হাজার ৬৬ টন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১৬৮ টন এবং পাকিস্তান থেকে ৪২৭ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। এসব অনুমোদন সংস্থাটি দিয়েছে ১২৫টি ছাড়পত্রের মাধ্যমে।

আমদানিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘দাম কমে যাওয়ার ভয়ে আইপি ইস্যু করেও পেঁয়াজ আমদানি করছেন না আমদানিকারকরা। আমদানি করা পেঁয়াজ আসতে আসতে দেশের বাজারে দাম কমে যেতে পারে বলে আমদানিকারকরা ভয় পাচ্ছেন। এজন্য আমদানিকারকরা সতর্ক অবস্থানে আছেন। তারা ঢালাওভাবে পেঁয়াজ আমদানি করছেন না। পেঁয়াজ আমদানিকে তারা ঝুঁকি মনে করছেন।’ কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ‘সরকার বারবার ঘোষণা দিচ্ছে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে, কমে যাবে। আমদানি করার পর যদি দাম কমে যায়, তাহলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।’

সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ স্টেশনের উপপরিচালক ড. মোহম্মদ আসাদুজ্জামান বুলবুল শেয়ার বিজকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এস আলম গ্রুপের আইপি অনুমোদন পাওয়া আমদানির পেঁয়াজ আসেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ১২ অক্টোবর থেকে গত ২ নভেম্বর পর্যন্ত ১৪০টি আইপির মাধ্যমে মোট এক লাখ ৩২৬ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১১ হাজার ৪৬০ টন পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে ঢুকেছে। পরীক্ষা শেষে ১৩৫টি ছাড়পত্রের মাধ্যমে এসব পেঁয়াজ ছাড়া হয়েছে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..