প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

এ বছরই সূচক ছয় হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করবে

পুঁজিবাজার উত্থান-পতনের বাজার। এ বাজার মন্দা থাকবে। তেজি থাকবে। আবার হঠাৎ সূচকের বড় উত্থান-পতন হবে। বাজারের জন্য এসব স্বাভাবিক। বর্তমানে বাজার বেশ গতিশীল অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে খুব শিগগির সূচক ৬০০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যাবে। এনটিভির মার্কেট ওয়াচে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। আহমেদ রশীদ লালীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুসা, বালি সিকিউরিটিজের পরিচালক সৈয়দ সিরাজ উদ্দৌলা এবং অর্থনীতিবিদ আহম্মেদ আল কবির।

ড. মুসা বলেন, এ বছরের শুরুতে আমরা দেখেছিলাম পুঁজিবাজারের সূচক পাঁচ হাজার ৭০০ পয়েন্ট অতিক্রম করতে। পরে তা কমে পাঁচ হাজার ৪০০-এর নিচে নেমে যেতেও দেখেছি। বর্তমানে আবার বেড়ে পাঁচ হাজার ৮০০ অতিক্রম করেছে। আমি মনে করি এ আচরণ বাজারের জন্য ভালো। একটি নির্দিষ্ট সময়ে পুঁজিবাজারের দর ওঠানামা করবে এটি বাজারের বৈশিষ্ট্য এবং প্রফিট হলে অনেকেই তা সংগ্রহ করতে চাইবে এটিও বাজারের বৈশিষ্ট্য। তিনি বলেন, আর্থিক বছর শেষে ব্যাংকের শেয়ারগুলো বেশ বেড়েছে। কোনো কোনোটি ১০ শতাংশ, কোনো কোনোটি ৭-৮ শতাংশের মতো বেড়েছে। কাজেই এত অল্প সময়ের মধ্যে যদি ৭,৮,১০ শতাংশের মতো প্রফিট হয় তাহলে বিনিয়োগকারীদের কাছে তা খুব লোভনীয় বিষয় হয়। আর তখনই তারা প্রফিট সংগ্রহ করতে আগ্রহী হয়। যে কারণে বাজার কিছুটা পড়ে যায়। সূচক পাঁচ হাজার ৮০০ থেকে ৪০-৫০ পয়েন্ট ওঠানামা করা খুব বড় কিছু নয় বলে মনে করি। তবে একটানা ওঠানামা করা বাজারের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। দীর্ঘদিন শেয়ারমূল্য ফেস ভ্যালুর নিচে বা ওপরে থাকাও খারাপ। সব দিক বিবেচনায় বর্তমান বাজারকে স্থিতিশীল এবং ক্রমবর্ধমান হিসেবে চিহ্নিত করতে চাই। আমার ধারণা, এ বছরই সূচক ছয় হাজার অতিক্রম করবে।

আহম্মেদ আল কবির বলেন, সার্বিকভাবে চিন্তা করলে দেখবেন এবার বাজেটের পর বাজার ইতিবাচক অবস্থায় আছে। অন্যদিকে পুঁজিবাজারে যতটুক সংশোধন দেখছি তা খুবই ইতিবাচক ধারায় আছে। বর্তমান বাজার একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোয় গত ৪০-৫০ বছর ধরে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি চলে আসছে। আর এ  থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমি মনে করি ব্যাংকিং খাতের ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আনতে হবে। ব্যাংকের আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে হবে। কাজেই এসব দিক বিবেচনায় আনতে হবে।

সৈয়দ সিরাজ উদ্দৌলা বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতির সব সূচক ইতিবাচক। সে দিক বিবেচনায় দেশের অর্থনীতি পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। অন্যদিকে এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য নেতিবাচক কিছু ছিল না। কিছু দিক বিবেচনায় বরং ইতিবাচকই বলা চলে। আর তারই একটি ইতিবাচক প্রভাব আমরা লক্ষ করছি বাজারে। বাজেটকে কেন্দ্র করে বাজার বেশ কিছুদিন নি¤œমুখী ছিল। বাজেট পাসের পর বাজার আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বাজার স্থিতিশীল আছে এবং আমার ধারণা এটি দীর্ঘ সময় অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, অনেক সময় দেখা যায় খাতভিত্তিক শেয়ারে দর বৃদ্ধি হয়। আমি মনে করি এটি বাজারের জন্য ভালো নয়। কোনো শেয়ারে বিনিয়োগের আগে কোম্পানির প্রবৃদ্ধি, ইপিএস, ডিভিডেন্ড ইত্যাদি বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে বিনিয়োগ করা উচিত। এতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মুনাফা হারনোর সম্ভাবনা কম থাকে।

 

শ্রুতি লিখন: রাহাতুল ইসলাম