প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ওপেকবহির্ভূত দেশগুলোও তেল উৎপাদন কমাবে

শেয়ার বিজ ডেস্ক: অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন (ওপেক) বহির্ভূত ১১টি উৎপাদনকারী দেশ পণ্যটির দাম বাড়াতে উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্তে মত দিয়েছে। রাশিয়াসহ এসব দেশ শনিবার ঘোষণা দিয়েছে যে, প্রতিদিন তারা পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন কমাবে। এর আগে গত মাসে ওপেক সদস্য দেশগুলো উত্তোলন কমানোর বিষয়ে একমত হয়। ২০০১ সালের পর এই প্রথম ওপেক ও নন-ওপেক দেশগুলো একসঙ্গে জ্বালানি তেল উৎপাদন কমাতে চুক্তিবদ্ধ হলো। খবর বিবিসি।

গত মাসে অস্ট্রেরিয়ার ভিয়েনায় ওপেক বৈঠকে সদস্য দেশুগুলো প্রতিদিন ১২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী বছর জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হবে। ওই সময় বলা হয়েছিল, ওপেকবহির্ভূত দেশগুলোও উত্তোলন কমাতে একমত হবে। রাশিয়া তখনই ইঙ্গিত দিয়েছিল এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার।

২০১৪ সালের পর অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ব্যাপক দরপতনের পর ঘুরে দাঁড়াতে উৎপাদন কমাতে এ ধরনের চুক্তিকে ইতিবাচক দেখছেন বিশ্লেষকরা।

কাতারের তেলমন্ত্রী ও ওপেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন সালেহ আল সাদা বলেন, ‘একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছাতে পেরে আমি খুবই খুশি।’

অপেকবহির্ভূত দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া ছাড়াও আজারবাইজান, ওমান, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, সুদান, দক্ষিণ সুদান ও বাহরাইন শনিবার ভিয়েনার বৈঠকে অংশ নেয়। এ চুক্তির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী বছর ২৫ মে আবার ওপেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ওপেকভুক্ত দেশগুলো জ্বালানি তেলের উত্তোলন সম্মিলিতভাবে দৈনিক তিন কোটি ২৫ লাখ থেকে তিন কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে একমত হয়। কিন্তু রাশিয়া ও ইরানের সিদ্ধান্তহীনতায় অনিশ্চয়তায় ছিল চূড়ান্ত চুক্তি।

ওপেকভুক্ত দেশগুলো পণ্যটির সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বাজার দীর্ঘ মেয়াদে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ওপেকের উত্তোলন কমলে বাজারে ব্যবসায়ীদের মধ্যে পণ্যটির মজুতপ্রবণতা বাড়বে, যা নিঃসন্দেহে বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করবে।

২০১৪ সালের জুনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি হয় ১১৫ ডলারে। কিন্তু অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে তা ব্যারেলপ্রতি ২৭ ডলারের নিচে নেমে আসে। অন্যদিকে বিশ্বে তেলের চাহিদাও কমে যায়। বিশ্বের দ্বিতীয় বড় অর্থনীতির দেশ চীনের অর্থনীতির গতি মন্থর হয়ে যাওয়া এর একটি বড় কারণ। সে সময় চীনে তেলের চাহিদাও কমে যায়। এ পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমতে থাকে ব্যাপক হারে। নতুন বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকে প্রতিষ্ঠানগুলো। জ্বালানি তেলের দাম কমায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া অন্যতম।

২০১৫ সালে রাশিয়ার অর্থনীতি তিন দশমিক সাত শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ২০০৯ সালের পর এটাই দেশটির সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ধস। দেশটির মুদ্রা রুবলের রেকর্ড দরপতন ঘটে। রাশিয়া সরকারের অর্ধেক আয়ের উৎস হলো তেল ও গ্যাস। রাশিয়ার ২০১৬ সালের বাজেট পাস হওয়ার সময় জ্বালানি তেলের দাম ছিল গড়ে ৫০ ডলার। ইতোমধ্যে দেশটির সরকার ১০ শতাংশ খরচ কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে।

তেল উৎপাদন কমানোর বিষয়ে সৌদি আরব এবং ইরানের মধ্যকার মতপার্থক্য ঐকমত্য বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি করেছিল। কারণ ইরান এ মুহূর্তে তেল উৎপাদন কমাতে চায় না বলে মনে করা হতো। অন্যদিকে তেল উৎপাদন কমানোর ক্ষেত্রে সৌদি আরবও সিংহভাগ দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহী ছিল। ইরান বলেছিল, বহু বছর অর্থনৈতিক অবরোধ থাকায় তাদের তেলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়নি। তবে শেষ পর্যন্ত তারা সবাই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছে।