সম্পাদকীয়

ওয়াসার অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করে আয় বাড়ান

মানবদেহের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই পানি। সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে বিশুদ্ধ পানির বিকল্প নেই। অপর্যাপ্ত পানি পানের কারণে পড়তে হয় নানা সমস্যায়। পানির ঘাটতিতে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। এ থেকে ইউরিন ইনফেকশন ও কিডনিসমস্যাসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের আশঙ্কা থাকে।

রাজধানীবাসীর জন্য ‘বিশুদ্ধ পানি’ সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় সংস্থা ঢাকা ওয়াসা (পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ) নগরবাসীকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে পারছে কি না, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ। রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা প্রায়ই বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন। দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহার করে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ওই পানি কোনো কাজেই ব্যবহার করা যায় না। রান্নাবান্না এমনকি গোসল ও অজু করার জন্যও পানি কিনতে হয়। আবার সারা রাত জেগে থেকেও পানি পায় না নগরবাসী।

নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পানি কিনে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। অভিযোগ করলেও প্রতিকার পাওয়া যায় না; বরং অভিযোগকারীকে হেনস্তা করার দৃষ্টান্তও রয়েছে। অবশ্য খোদ সংস্থাটির কর্মকর্তারা ওয়াসার পানি পান করেন না বলে স্বীকার করেছেন।

এ অবস্থায় পানির দাম ৮০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াসা। আবাসিক ব্যবহারের জন্যে প্রতি ইউনিট (এক হাজার লিটার) পানির দাম ১১ টাকা ৫৭ পয়সার স্থলে ২০ টাকা এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের পানির দাম ৩৪ টাকা চার পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে সংস্থাটির অনেক টাকা ঋণ হয়ে গেছে। ঋণ পরিশোধের জন্যে পানির দাম বাড়ানো দরকার বলে যুক্তি দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া সংস্থার পরিচালন খরচ বেড়েছে বলে জানায় তারা।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, ওয়াসা বোর্ড পানির দাম বার্ষিক পাঁচ শতাংশ হারে বাড়াতে পারে। গত বছরও সংস্থাটি মুদ্রাস্ফীতির কথা বলে পাঁচ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে।

পানির দাম ৮০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি সংস্থা টিআইবি। গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওয়াসার প্রস্তাবকে গ্রাহক নির্যাতনমূলক ও প্রচলিত নীতির বিরোধী আখ্যা দিয়ে গণশুনানিসাপেক্ষে সহনীয় মাত্রায় দাম নির্ধারণের দাবি করেছে টিআইবি।

আমরা মনে করি, অভ্যন্তরীণ সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে ওয়াসার সিস্টেম লস কমবে, মুনাফা বাড়বে এবং পানির দাম বেশি বাড়াতে হবে না। নিজেরা দায়িত্বশীল না হয়ে পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব প্রকারান্তরে গ্রাহকের ওপর অত্যাচারই বটে। সময়ের পরিক্রমায় অবশ্যই অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন। দাম বাড়ানো হলো সর্বশেষ পদ্ধতি। তার আগে ক্রয় প্রক্রিয়া, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও গ্রাহক পর্যায়ের মিটার রিডিংসহ নানা ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করলে আয় বাড়বে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..