সম্পাদকীয়

ওয়াসার জন্য যোগ্য নেতৃত্ব খোঁজা হোক

ষষ্ঠবারের মতো ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেতে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা-তদবির চালাচ্ছেন বর্তমান এমডি প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। আবারও এমডি হিসেবে বোর্ডের সুপারিশ করিয়ে নিতে তিনি অনলাইনে বোর্ড সভা করেন গতকাল। জানা গেছে, সভার একমাত্র এজেন্ডা ছিল তাকসিমকে তিন বছরের জন্য এমডি হিসেবে নিয়োগ দিতে স্থানীয় সরকার বিভাগে সুপারিশ পাঠানো।

২০০৯ সালের ১৩ অক্টোবর এমডি হিসেবে প্রথম নিয়োগ পান তাকসিম এ খান। এরপর টানা পাঁচবার তার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে সরকার। তার চলতি মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৩ অক্টোবর। ষষ্ঠবারের মতো এমডি হিসেবে নিয়োগ পেতে ওয়াসা বোর্ডের বেশ কয়েকজন সদস্যকে এরই মধ্যে তিনি ‘ম্যানেজ’ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুরুর দিকে বেশ কয়েকজন বোর্ড সদস্যকে চিঠিও দেওয়া হয়নি। তবে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে তাদের বোর্ডসভার ব্যাপারে জানানো হয়। সরকারি সব অফিসের সভা অফলাইনে হলেও ওয়াসা সভা আহ্বান করেছে অনলাইনে। এই সভা অফলাইনে করার বিষয়ে একমত হয়েছিলেন ওয়াসার অন্য সদস্যরা। হঠাৎ অনলাইনে সভা ডাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

তাকসিম যখন ঢাকা ওয়াসার দায়িত্ব নেন, তখনকার সঙ্গে বর্তমান অবস্থার কোনো ইতিবাচক পার্থক্য নেই। তখন সামান্য বৃষ্টিতে পানির নিচে চলে যেত রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকা। এখনও একই অবস্থা। ওয়াসার সরবরাহ করা পানিতে ময়লা, দুর্গন্ধ আগে ছিল, এখনও আছে। জলাবদ্ধতা, পয়োনিষ্কাশন ও নাগরিক সেবার মানে এতটুকু পরিবর্তন হয়নি। আত্মসমালোচনা করে তিনি হয়তো আত্মতৃপ্ত, তাই ওয়াসার এমডি ও প্রধান নির্বাহী পদে থাকতে চান আরও তিন বছর। অথচ তিনি বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে পারেননি। তিনি নিজেও ওয়াসার পানি পান করেন না বলে জানিয়েছেন। এখন কেন এ পদে থাকতে চান আমরা জানি না।

ঢাকা ওয়াসায় সুশাসন নিশ্চিত করতে শীর্ষ পদে নিয়োগে আইনের যথাযথ অনুসরণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে টিআইবি। সম্ভবত এখানে স্বচ্ছতা নেই। হয়েছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, তার মেয়াদ বাড়ানোর পদ্ধতি নিয়েও রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন। বোঝা যায়, তাকে নিয়োগ দিতেই এমনভাবে আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি যদি নিয়োগ পানÑতাতে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে, তার বিকল্প নেই, তার ব্যর্থতা নেই। সত্যিই কি তাই! নিয়ম অনুযায়ী, এই পদে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছিল কি না, কারা আবেদন করেছিলেন, কেন তারা যোগ্য নন, বা কেন বর্তমান এমডিই সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত প্রার্থী কেউ জানে না। হয়তো তিনি অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব।

বাস্তবতা ভিন্ন। বর্তমান এমডির কার্যকালে জনদুর্ভোগ ও অনিয়ম ওপেন সিক্রেট। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকলে মন্দ উদাহরণ সৃষ্টি হবে। ভুতুড়ে বিল, ১২ বছরে ১৩ বার মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সত্ত্বেও কেন তাকে নিয়েগ দিতে হবে? কেউ অপরিহার্য নয়। আইনের শাসন নিশ্চিতে সরকার উদ্যোগ নেবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..