কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

ওরিয়ন ফার্মার দর বেড়েছে ৩৫ শতাংশ

সাপ্তাহিক বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে চার কোটি ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৬০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৮৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকার শেয়ার।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ বা তিন টাকা ৪০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৩৭ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৩৭ টাকা ৫০ পয়সা। দিনজুড়ে ২৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫১৫টি শেয়ার মোট ৮৭৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর আট কোটি ৮৫ লাখ ২১ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৩৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩৭ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ২৫ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩৭ টাকা ৬০ পয়সায় ওঠানামা করে।

২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে ইপিএস হয়েছে তিন টাকা ৭৭ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৭৫ টাকা ১৯ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ছয় টাকা ১৯ পয়সা।

২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা তার আগের বছরের সমান। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে তিন টকা ৪৩ পয়সা। এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ৭২ টাকা ৮৮ পয়সা। আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে তিন টাকা ৪০ পয়সা ও ৭০ টাকা ৯৫ পয়সা।

২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানি। অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ২৩৪ কোটি টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৭২৫ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির ২৩ কোটি ৪০ লাখ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩১ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক ৪৮ দশমিক ১৪ শতাংশ, বিদেশি এক দশমিক ৮৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৮ দশমিক শূন্য এক শতাংশ শেয়ার রয়েছে। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাতে ৯ দশমিক ৯৫ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে আট দশমিক ৭৬।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান: স্কিম। আলোচিত সময়ে ফান্ডটির ইউনিটদর বেড়েছে ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহে ফান্ডটির প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ৭৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬০০ টাকার ইউনিট। সপ্তাহ শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ৭৮ লাখ ১৮ হাজার টাকা।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে ফান্ডটির ইউনিটদর ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বা ৫০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ছয় টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ছয় টাকা। ওইদিন ৩৯ লাখ ৩১ হাজার ৯২৪টি ইউনিট মোট ৪১৬ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর দুই কোটি ৩২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। দিনভর ইউনিট দর সর্বনি¤œ পাঁচ টাকা ৬০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ছয় টাকায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে ইউনিট দর চার টাকা ১০ পয়সা থেকে সাত টাকা ২০ পয়সায় ওঠানামা করে।

মিউচুয়াল ফান্ডটি ২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ফান্ডটির পরিশোধিত মূলধন ৭৫ কোটি টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১৭ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফান্ডটির মোট সাত কোটি ৫০ লাখ শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, ফান্ডটির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের কাছে ১০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৪০ দশমিক ৫৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৪৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ৯ দশমিক ৮৪ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ২১ দশমিক ৪৩।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ২৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন ১১ কোটি ৬২ লাখ ৮৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ৫৮ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার শেয়ার।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ বা ৬০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৬৯ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৬৯ টাকা। দিনজুড়ে ২১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭৯টি শেয়ার মোট দুই হাজার ৫৪১ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১৫ কোটি ২৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৬৮ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৩ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ৪৬ টাকা থেকে ৭৩ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠানামা করে।

২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ১৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা তার আগের বছরের সমান। আলোচিত সময়ে ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৯৭ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি এনএভি দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৬৬ পয়সা, যা তার আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে এক টাকা ৬২ পয়সা ও ১২ টাকা ৫৩ পয়সা।

১৯৯৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানি। অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ পাঁচ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির দুই কোটি তিন লাখ ৫৯ হাজার ৭৬০টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৪০ দশমিক ৬১ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক ১৯ দশমিক ২০ শতাংশ, বিদেশি শূন্য দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪০ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাতে ৩৫ দশমিক শূন্য তিন এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ৩০ দশমিক ২৬।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..