প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ওরিয়ন ফার্মার বাড়ছে ব্যয়, কমছে মুনাফা

পলাশ শরিফ: আয় বাড়লেও লাগামছাড়া ব্যয়ের কারণে মুনাফা কমছে তালিকাভুক্ত ‘ওরিয়ন ফার্মা’র। সবশেষ অর্থবছরে কোম্পানিটির আয় ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধির বিপরীতে মোট ব্যয় ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। যে কারণে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৪৪ শতাংশ। যে কারণে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করে কোম্পানিটির সমন্বিত কর-পরবর্তী মুনাফা বাড়ছে। তবে সমন্বিত মুনাফা বাড়লেও লভ্যাংশের হার কমছে। সে সঙ্গে শেয়ারদরও কমছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ওরিয়ন ফার্মা। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত (১৮ মাস) সময়ে কোম্পানিটি আয় করেছে ২৪৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। সে হিসেবে এর আগের ২০১৪-১৫ অর্থবছরের তুলনায় সবশেষ অর্থবছরের

আয় প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ প্রায় ৭৯ কোটি

৭১ লাখ টাকা। ওই অর্থবছরে ওরিয়ন ফার্মার আয় হয়েছিল ১৬৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা। কিন্তু আয় বাড়লেও কর-পরবর্তী মুনাফা বাড়েনি। উল্টো ৩১ শতাংশ কমেছে। ২০১৪

অর্থবছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা ৩৩ কোটি এক লাখ টাকা ছিল। যা সর্বশেষ (১৮ মাস) অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১০ কোটি ২২ লাখ টাকা কমে ২২ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় নেমেছে।

ওরিয়নের মুনাফা কমে যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে বাড়তি ব্যয়। সবশেষ অর্থবছরে কোম্পানিটির সাধারণ ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং বিক্রি ও বিপণন ব্যয়সহ তিন খাতের ব্যয়ই বেড়েছে। সবশেষ অর্থবছরে কোম্পানিটি প্রায় ৬৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয় করেছিল। যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬৩ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১০৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ওই অর্থবছরে আয় ৪৮ শতাংশ (প্রায় ৭৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা) বৃদ্ধির বিপরীতে মোট ব্যয় ৬৩ শতাংশ (৪২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা) বেড়েছে। আয়-ব্যয়ে সামঞ্জস্যহীনতার কারণেই কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা কমেছে।

অন্যদিকে সমন্বিত আয় ও কর-পরবর্তী মুনাফা বাড়লেও সে হারে লভ্যাংশের হার বাড়ছে না। তালিকাভুক্তির আগে ২০১১-১২ অর্থবছরে ২০ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ বোনাস মিলিয়ে মোট ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল ওরিয়ন ফার্মা। ওই অর্থবছরে কোম্পানিটির সমন্বিত কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছিল ৯৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আর সর্বশেষ অর্থবছরে সমন্বিত কর-পরবর্তী মুনাফা ওই অর্থবছরের তুলনায় ছয় কোটি সাত লাখ টাকা বেড়েছে। কিন্তু সমন্বিত মুনাফা বাড়লেও কোম্পানিটির লভ্যাংশ প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। সর্বশেষ অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

দিন দিন ব্যয় বৃদ্ধি ও লভ্যাংশের হার কমে যাওয়ায় কোম্পানিটির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি ডিএসইতে ওরিয়ন ফার্মার শেয়ারদর ছিল ৪৬ টাকা ৪০ পয়সা। আর সবশেষ কার্যদিবসে গতকাল ওরিয়নের শেয়ার ৪২ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। অর্থাৎ কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়েনি, উল্টো কমেছে।

তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমেছে।

২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৬২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। যা চলতি

(২০১৬-১৭) অর্থবছরের একই সময় ৩৫ কোটি ৭১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর জেরে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ওরিয়ন ফার্মার কর-পরবর্তী মুনাফা

আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ কোটি ২৭ লাখ টাকা বেড়েছে।

কোম্পানির ব্যয় বৃদ্ধি ও লভ্যাংশের হার কমে যাওয়া সম্পর্কে কথা বলার জন্য শেয়ার বিভাগের কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এসব বিষয়ে কোম্পানি সচিব ফেরদৌস জামানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে কোম্পানি সচিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বিদেশে আছেন বলে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে ওরিয়ন ফার্মা। ওরিয়ন গ্রুপের ওই কোম্পানিটি প্রিমিয়ামসহ ৬০ টাকা ইস্যুমূল্যে চার কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১৩ সালে। কোম্পানিটির মোট ২৩ কোটি ৪০ লাখ শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে ৩১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর হাতে ৩৬ দশমিক ৯০ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীর হাতে চার দশমিক শূন্য তিন শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে ২৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এদিকে ৬৫৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ঋণের বিপরীতে কোম্পানিটির বর্তমান রিজার্ভ ৫৩৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা।