প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ওষুধশিল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি নিয়ে ফার্মা এক্সপো শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: রংবেরঙের ওষুধ লাল-সাদা-হলুদ। ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো যান্ত্রিক প্রযুক্তিতে ট্যাবলেটের গায়ে রঙের প্রলেপ দিচ্ছে। আবার কোথাও অটোমেটিক মেশিনে ওষুধ বোতলজাত-প্যাকেজিং করা হচ্ছে। বড় স্টলগুলোয় বসানো হয়েছে এমন কয়েক ডজন মেশিন।

ফার্মা এক্সপোতে ট্যাবলেট কোটিং মেশিনের প্রদর্শনী হচ্ছে একটি স্টলে। ভারতের তৈরি এ মেশিনের কার্যক্রম দেখাচ্ছে এর এদেশীয় পরিবেশক। ঢাউস আকারের এ মেশিন দেখতে ভিড় করেছে অনেকে। সেই স্টলের কর্মকর্তারা দর্শনার্থীদের তা চালিয়ে দেখাচ্ছেন। ওষুধশিল্প-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ এবং কাঁচামাল সম্পর্কে জানছে দর্শনার্থীরা।

গতকাল শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী নবম ‘এশিয়া ফার্মা এক্সপো ২০১৭’-এর প্রথম দিনের চিত্র এটি। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে এ ফার্মা এক্সপো চলবে শনিবার পর্যন্ত। বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির উদ্যোগে এবং জিপিই প্রাইভেট লিমিটেডের সহযোগিতায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাতে চলছে এ মেলা। মূলত দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা এ প্রদর্শনী থেকে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল সম্পর্কে ধারণা প্রদান এবং ক্রয়াদেশ গ্রহণে এ ফার্মা এক্সপোর আয়োজন।

এবারের ফার্মা এক্সপোতে আমেরিকা, চীন, ইংল্যান্ড, জার্মানি, মালয়েশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, ইতালি, জাপান, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, আয়ারল্যান্ড, বাংলাদেশসহ ৩৫টি দেশের প্রায় পাঁচ শতাধিক কোম্পানি অংশগ্রহণ করেছে। এ আয়োজনে রয়েছে ফার্মা প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, বায়োটেক ল্যাব ইক্যুইপমেন্ট, এপিআই ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্টস ও মেশিনারিজ, ফার্মা ফর্মুলেশনস এবং কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিংসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

মেলায় প্রিসিসা টেকনো টেক’র প্রকৌশলী ট্যাবলেট কোটিং মেশিন সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, ‘এ মেশিন দিয়ে একসঙ্গে প্রায় ১০০ কেজি ওজনের ট্যাবলেটের ওপরে রঙের প্রলেপ দেওয়া সম্ভব হয়। বাংলাদেশে এ মেশিন ব্যবহার হচ্ছে সবখানেই।’

ক্যাপসুল ওষুধের সঙ্গে সবাই কমবেশি পরিচিত। হাতের স্পর্শ ছাড়াই মেশিনের সাহায্যে ক্যাপসুলে ওষুধ প্রবেশ করানো হয়। ক্যাপসুল ফিলিং মেশিনও এবারের প্রদর্শনীতে এসেছে। ভারতের তৈরি একটি ফিলিং মেশিন প্রদর্শন করেছে বাংলাদেশের ফ্যাবিটেক টেকনোলজিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। এ মেশিন দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ৯০ হাজার ক্যাপসুলে ওষুধ প্রবেশ করানো সম্ভব। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলেন, ইতোমধ্যে একটি কোম্পানি এ ক্যাপসুল ফিলিং মেশিন কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কয়েকটি স্টল ঘুরে দেখা যায়, বিদেশি মেশিনের বাইরে ওষুধ খাতে দেশি মেশিনও ব্যবহƒত হয়। ট্যাবলেট প্যাকেটজাত করার জন্য মেশিন তৈরি করেছে দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এসব মেশিনের দাম সাড়ে আট লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা। প্রতি মিনিটে ৩০ পাতা ওষুধ প্যাকেটজাত করতে পারে এসব মেশিন।

ফার্মা এক্সপোতে ওষুধের কাঁচামালের বিক্রেতা ও পরিবেশকদের স্টল রয়েছে। রয়েছে ওষুধ কারখানার কর্মীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা যন্ত্রপাতির প্রদর্শনী। কয়েকটি স্টলে নিরাপত্তা পোশাক, হেলমেট, গ্লাভস, মাস্ক, জুতাসহ নানা ধরনের পণ্যের দেখা মেলে। ভারতীয় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান জিপিই প্রাইভেট লিমিটেডের একজন মুখপাত্র বলেন, গতবারের চেয়ে এবার দর্শনার্থীর সমাগম বেশি। সব প্রতিষ্ঠান ভালো ক্রয়াদেশ পাবে বলে আমরা আশা করছি।

এদিকে গতকাল ফার্মা এক্সপোর উদ্বোধনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ একমাত্র স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে ওষুধ রফতানি করছে। বর্তমানে ১২৭টি দেশে ছোট করে হলেও আমাদের ওষুধ যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলো (এলডিসি) ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ওষুধশিল্পে মেধাস্বত্বে ছাড় পেয়েছে। আগামী ১৭ বছর ওষুধ তৈরি ও রফতানি ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব খাতে বাংলাদেশকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। ওষুধশিল্পের প্রতি বর্তমান সরকার যতœবান বলেই এ শিল্পের দ্রুতি উন্নতি ঘটছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধের কদর বাড়ছে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির উপদেষ্টা ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির মহাসচিব এসএম শফিউজ্জামান ও  সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ।

উল্লেখ্য, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এক্সপো খোলা থাকবে।