সম্পাদকীয়

ওষুধ কোম্পানির আগ্রাসী বিপণন নীতি বন্ধ হোক

একসময় দেশে ওষুধপ্রাপ্তিতে সংকট থাকলেও এখন সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। দেশে ৫০টির মতো কোম্পানি এলোপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুত করে। কিছু প্রতিষ্ঠানের ওষুধ রফতানিও হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের স্বস্তিতে থাকার কথা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। ভেজাল ও নকল ওষুধ তৈরি, নি¤œমানের কোম্পানির দৌরাত্ম্যসহ নানা কারণে সংকট বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণন নীতি নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষত তাদের বিক্রয় প্রতিনিধিরা চিকিৎসকদের নানাভাবে প্রভাবিত করছেন বলে অভিযোগ। আর্থিক লেনদেনের কথাও শোনা যায়। এভাবে চললে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকিতে পড়তে পারে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বিক্রয় প্রতিনিধিদের অযাচিত কর্মকাণ্ড তুলে ধরে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্যে সেবা বিঘিœত’ শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সপ্তাহে দুদিন এক ঘণ্টা চিকিৎসকের কক্ষে যাওয়ার নিয়ম থাকলেও তারা তা মানছেন না। এমনকি রোগীদের প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা ভঙ্গ করছেন, যা উদ্বেগজনক। শুধু চুয়াডাঙ্গায় নয়, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালেই বিক্রয় প্রতিনিধিরা চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অবিলম্বে এর অবসান হওয়া জরুরি।

জনস্বাস্থ্যের জন্য স্পর্শকাতর পণ্য ওষুধ নিয়ে কোম্পানিগুলোর এ ধরনের বিপণন নীতি গ্রহণযোগ্য নয়। সম্প্রতি স্বনামধন্য বহুজাতিক কোম্পানি ‘সানোফি’ এদেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা যাচ্ছে। তাদের আপত্তি মূলত দেশি ওষুধ কোম্পানিগুলোর এ ধরনের বিপণন নীতি নিয়ে। সানোফি যদি সত্যিই কার্যক্রম স্থগিত করে, তাহলে তাতে আপত্তি করার সুযোগ নেই। কোম্পানিগুলোর এমন বিপণন নীতি গ্রহণযোগ্য নয়, ওষুধের সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করাটাই বরং যুক্তিযুক্ত। সেখানে এমন বিপণন পন্থা ওষুধ শিল্পের জন্য বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। সরকার, বিশেষত ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরকে এটি রোধে আরও কঠোর হতে হবে।

খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্রয় প্রতিনিধিরা হাসপাতালের ওয়ার্ডে সেবিকা কক্ষে ঢুকে আবাসিক রোগীদের প্রেসক্রিপশন ফাইল ঘেঁটে দেখেন। বিষয়টি নিঃসন্দেহে ধৃষ্টতার পর্যায়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিনিধিদের কাছ থেকে উপঢৌকন নিয়ে তাদের প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছেন কিছু চিকিৎসক। এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক। এতে ওষুধের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ওষুধ কোম্পানিগুলোকে অসুস্থ বিপণন প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে মানসম্মত ওষুধ তৈরিতে অবশ্যই মনোযোগী হতে হবে। সেটা নিশ্চিত হলে দেশে-বিদেশে তাদের ওষুধের চাহিদাও বাড়বে। এ ছাড়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে তারা সবার জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিতে মনোযোগী হবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..