সম্পাদকীয়

ওয়াসার দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কয়েক বছর ধরেই জলাবদ্ধতা বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। নিরাপদ পানি নিয়েও অভিযোগ অনেক। চলতি বছরও ওয়াসার দূষিত পানি নিয়ে তোলপাড় পড়ে যায় সারা দেশে। এ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে অনেক। এসব সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব ওয়াসার হলেও হতাশাজনকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে সংস্থাটি। অথচ নিরাপদ পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশনসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে সরকার। এরপরও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, উল্টো ওয়াসায় নানা দুর্নীতি খুঁজে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওয়াসার মতো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘ওয়াসার ১১ পয়েন্টে দুর্নীতি হয়: দুদক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর কাছে ওয়াসার দুর্নীতি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে দুদক। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওয়াসার ১১টি পয়েন্টে দুর্নীতি হয় বা হতে পারে বলে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। খবরটি উদ্বেগজনক। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ওয়াসার মতো সংস্থা। সেখানে দুর্নীতি হলে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটাবে সন্দেহ নেই। আর সেটি হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এজন্য ওয়াসায় দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই।
খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, দুদকের ভাষ্যমতে মিরপুরে ৫২১ কোটি টাকার একটি প্রকল্পে ৫২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে। কাজের মান ও পরিমাপের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসূত্র করে এ অনিয়ম হয়েছে। ঢাকা মহানগর পানি সংগ্রহ প্রকল্পে ৫৫২ কোটি টাকা বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে। সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও এ কাজ সময়ের মধ্যে শেষ হওয়া সম্ভব নয়। কাজগুলো মূলত ওয়াসার কর্মকর্তাদের পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে বা এ-সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট দুর্নীতির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ অপচয় করা হয়েছে সন্দেহ নেই। এক্ষেত্রে জড়িতদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে আমরা মনে করি।
শুধু ওয়াসাতেই নয়, সরকারি আরও অনেক প্রতিষ্ঠানেই এ ধরনের দুর্নীতি ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে। ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আগেও এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে এবার সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ দেখানো হয়েছে। এক্ষেত্রে যারাই জড়িত থাকুন না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থের অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতায় দুদক যথাযথ ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা আশা করি। পাশাপাশি জনদুর্ভোগ লাঘবে ওয়াসাকে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..