প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ওয়েলিংটনে বাংলাদেশের স্বপ্নের একদিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক: ওয়েলিংটন টেস্ট শুরুর আগে থেকেই কন্ডিশন আর উইকেট ভীতি ছিল বাংলাদেশ শিবিরে। কিন্তু প্রথম দিনে তামিম ইকবাল ও মুমিনুল হকের ব্যাটিংয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি মেলে টাইগারদের। গতকাল তো তাদের ছাড়িয়ে গেলেন সাকিব হাসান আল ও মুশফিকুর রহিম। ২০১৪ সালের পর এই দুই ব্যাটসম্যান তুলে নিয়েছেন সাদা পোশাকে সেঞ্চুরি। সাকিব তো আবার সেই রানকে নিয়ে গেছেন দ্বি-শতকে। শুধু তা-ই নয়, পঞ্চম উইকেটে ৩৫৯ রানের রেকর্ড জুটি গড়ে সাকিব-মুশফিক সফরকারীদের রানটাকে নিয়ে গেছেন ৫৪২ রানে। এজন্য হারাতে হয়েছে ৭টি উইকেট। বলা যায়, গতকাল টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাট হাতে এক স্বপ্নময় দিন পার করেছে হাথুরু সিংহের শিষ্যরা। যেখানে দাঁড়িয়ে টেস্ট জয়ের কথাও ভাবা যায়!

আগের দিনের চেয়ে গতকাল ওয়েলিংটনের উইকেট কিছুটা সহজ হয়ে গিয়েছিল। তাই বলে রান করাটা ব্যাটসম্যানদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। কিউই পেস অ্যাটাক টাইগারদের বেশ পরীক্ষাও নিয়েছে। কিন্তু সবকিছু উতরে দিনশেষে সফরকারীরা উল্টো চাপে ফেলে দিয়েছে স্বাগতিকদের। যদিও সাকিব-মুশফিক দুজনই ফিরে গেছেন সাজঘরে; কিন্তু এখনও ক্রিজে আছেন

সাব্বির রহমান। তার ব্যাটে চড়ে আজ হয়তো রানটাকে আরও এগিয়ে নেবে হাথুরু সিংহের শিষ্যরা।

গতকাল অবশ্য দিনের শুরুতেই মুমিনুলকে হারিয়ে বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। আগের দিনের ৬৪ রানের সঙ্গে আর কোনো রান না করেই টিম সাউদির শিকারে পরিণত হন  তিনি। এর পরেই গল্প শুরু সাকিব-মুশফিকের। সময় যতো গড়িয়েছে, এই দুই তারকা ব্যাটসম্যান নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছেন। বিদেশের মাটিতে অনেকদিন এ ধরনের ক্রিকেট খেলেনি বাংলাদেশ। গতকাল কিউই বোলারদের বাউন্স, সুইং, ইয়র্কার বেশ দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছেন তারা।  একবারও তাদের শট দেখে মনে হয়নি অনেকদিন পর টেস্ট খেলছে সফরকারীরা। স্বাগতিক বোলারদের ভুগিয়েছেন এই জুটি। তবে দিনের শেষবেলায় ক্লান্তি আর মনোসংযোগের কিছুটা ঘাটতিও ভর করে সাকিব-মুশফিকের। বলা যায় দুজনই আউট হয়েছেন বাজে বলে। কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অন্য প্রান্তে ১০ রান নিয়ে খেলছেন সাব্বির রহমান।

ওয়েলিংটন টেস্টের দ্বিতীয় দিন ছিল শুধুই রেকর্ডের। অন্য কোনো দলের নয়, সেটা ছিল বাংলাদেশেরই। টেস্ট ক্রিকেটে টাইগারদের আগের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ছিল

তামিম ইকবালের ২০৬ রান।

গতকাল যা টপকে গেছেন সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার কালই ছুঁয়েছেন টেস্টে তিন হাজার রানের মাইলফলক। বর্তমানে সাদা পোশাকে সফরকারী দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় হাবিবুল বাশারকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। তার আগে রয়েছেন তামিম।

সাকিব আল হাসানের রেকর্ডময় দিনে ভাগ্যও অনুকূলে ছিল। ছিল প্রতিপক্ষ ফিল্ডারদের অবদানও। তিনবার জীবন পেয়েছেন এই বাঁহাতি। একবার তো আউট হয়েও হননি। ট্রেন্ট বোল্টের বলে লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে বলে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন প্রতিপক্ষ উইকেটরক্ষকের হাতে। কিন্তু ওই ক্যাচ নিয়ে কিছুটা সন্দেহ ছিল আম্পায়ারের। তাই তো তৃতীয় আম্পায়ারের শরণাপন্ন হন মাঠের আম্পায়াররা, যেখানে দেখা যায় ক্যাচ নিতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাত বলের সঙ্গে মাটিতে। সে কারণে এ যাত্রায় বেঁচে যান সাকিব।

এরপর তার সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন রস টেইলর। জীবন ফিরে পাওয়ার পর

কিউই বোলারদের শক্ত হাতে শাসন করেন বিশ্বসেরা এই ওয়ানডে অলরাউন্ডার। যাহোক, দিনশেষে সবাই ব্যাটসম্যানের রানটাকেই মনে রাখে। ম্যাচে কী হয়েছিল, তা মুখ্য নয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১৩৬ ওভারে ৫৪২/৭ (তামিম ৫৬, ইমরুল ১, মুমিনুল ৬৪, মাহমুদউল্লাহ ২৬, সাকিব ২১৭, মুশফিক ১৫৯, সাব্বির ১০*; বোল্ট ২/১২১, সাউদি ২/১৪৪, ওয়াগনার ৩/১২৪)