শেষ পাতা

কক্সবাজারের পাহাড় ও সৈকত রক্ষায় রুল জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের পাহাড় ও সমুদ্রসৈকত রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

তিন মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পরিবেশ সচিব, বিমান ও পর্যটন সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, পানিসম্পদ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ২২ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন মিনহাজুল হক চৌধুরী ও সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

কোনো রকম পরিবর্তন, রূপান্তর, কাটা বা ধ্বংসের হাত থেকে কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, টেকনাফ, রামু, চকরিয়া, উখিয়া এবং পেকুয়া উপজেলার পাহাড়, পাহাড়ি বন, টিলা রক্ষার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন আদালত।

একইসঙ্গে সমুদসৈকতের উন্নয়ন নিষিদ্ধ ও সংরক্ষিত এলাকার দূষণকারী, বেআইনি ও অননুমোদিত স্থাপনা বা অবকাঠামো অপসারণ, ধ্বংসের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

উভয় ক্ষেত্রে বিবাদীদের কেন ব্যর্থ বলে ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

কক্সবাজার পৌর এলাকায় হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট, বাজারসহ বাণিজ্যিক স্থাপনায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও পয়ঃশোধন প্লান্ট নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং সমুদ্রসৈকতে উচ্ছিষ্ট প্লাস্টিক ও পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কক্সবাজার পৌরসভাকে জরুরি উদ্যোগ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভার নাজিরারটেক থেকে টেকনাফের বদর মোকাম পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত, সৈকতের ঝাউ গাছসমৃদ্ধ ৩০০ মিটার উন্নয়ন নিষিদ্ধ ও ৫০০ মিটার সংরক্ষিত এলাকা এবং কক্সবাজার শহর ও সৈকত উন্নয়ন পরিকল্পনার সুপারিশকৃত পর্যটন এলাকায় ‘ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের’ ব্যবহার নিষিদ্ধের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। 

আইনজীবী সাইদ আহমেদ কবির বলেন, পরিবেশগত বিবেচনায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে টেকনাফ সমুদ্রসৈকতের ১০ হাজার ৪৬৫ হেক্টর এলাকার প্রাণ বৈচিত্র্য, নির্মল জলরাশি এবং পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষার জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে এ এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে। ফলে এ এলাকায় সব ধরনের স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ।

সম্প্রতি এই প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় লাবণী পয়েন্টে সার্কিট হাউস নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে ১০ তলা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তাছাড়া ‘ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ফর কক্সবাজার টাউন অ্যান্ড সি আপ টু টেকনাফ’ মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, জোয়ার ভাটার মধ্যবর্তী লাইন থেকে পৌরসভার প্রথম ৩০০ মিটার এলাকায়ও কোনো স্থাপনা বা নির্মাণ করা যাবে না। অথচ এসব এলাকায় দেদার নির্মাণকাজ চলছে।

এ আইনজীবী বলেন, ‘কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, টেকনাফ, রামু, চকরিয়া, উখিয়া এবং পেকুয়া উপজেলায় পাহাড়, পাহাড়ি বন, টিলা কেটে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য ব্যাপকভাবে বিনষ্ট হচ্ছে।’

এর প্রতিকার চেয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর ও ২৫ নভেম্বর দুই দফায় আইনি নোটিস দেওয়া হয় সংশ্লিষ্টদের। তাদের অনেকেই জবাব দিয়েছেন আবার অনেকেই দেননি। পরে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত খবর-প্রতিবেদন যুক্ত করে গত সপ্তাহে বেলার পক্ষে রিটটি করা হয়। সেটির শুনানি শেষে গতকাল আদালত অন্তর্বর্তী আদেশ না দিয়ে এ রুল জারি করেছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..