কক্সবাজার-মহেশখালী নৌরুট ব্যবহারকারীদের দুর্ভোগ বাড়ছেই

কাইমুল ইসলাম ছোটন, কক্সবাজার: কক্সবাজার-মহেশখালী নৌপথে বছরে দুই কোটি টাকা টোল আদায় হলেও বাড়ছে না সেবার মান। জেটি ঘাটে পর্যটকদের ভোগান্তি ও ঘাট শ্রমিকদের যাত্রী হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। অদক্ষ চালক, অব্যবস্থাপনার আর ঘাট কর্তৃপক্ষের জোগসাজশে পরিস্থিতি এমন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘাটের এমন অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ করলেও কোনো সুরাহা মিলেনি, বরং বাড়ছে দুর্ভোগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নেয়া হয় অতিরিক্ত টোল। পর্যাপ্ত যাত্রী থাকা সত্ত্বেও চালকরা নানা অজুহাতে বোট ছাড়েন না। রিজার্ভ ভাড়া নিতে বেশি চেষ্টা করেন। অনেক সময় মহেশখালীতে ঘুরতে আসা পর্যটকরা হয়রানির শিকার হন। এজন্য কক্সবাজার ৬ নং জেটি ঘাট ও মহেশখালী ঘাটে যাত্রীদের হয়রানির জন্য অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল।

এদিকে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে খালের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় দৈনিক দুই থেকে চার ঘণ্টা বোট চলাচল বন্ধ থাকে। এতে ঘাটে যাত্রীদের ভিড় জমে। যাতায়াতের বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে জোয়ারের জন্য যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়। নৌ-পথ দিয়ে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের কক্সবাজার শহরে যাওয়ার যাতায়াতের মাধ্যম এ নৌপথ।

ঢাকা থেকে আসা কয়েকজন পর্যটক জানান, বোটের টিকিটের কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেকে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেও বোট পাচ্ছেন না। আবার কেউ এসে বোট পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে হয়রানির পরিমাণ আরও বাড়ছে, যা পর্যটকদের জন্য অস্বস্তিকর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহেশখালীর জেটিঘাট জরাজীর্ণ হয়ে পড়লেও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া জেটিঘাট-সংলগ্ন খালে পলি জমে খালের গভীরতা কমে আসায় নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। খালটি খননের উপযোগী হয়েছে পড়েছে। শীত মৌসুমে ভাটার সময় খালের পানি নেমে যাওয়ার ফলে বোট চলাচল বন্ধ হয়ে পড়বে বলে স্থানীয়রা জানান।

গত শুক্রবার মহেশখালীর কাঠের জেটি ভেঙে ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন। মহেশখালীর দুই জেটি ঘাট জরাজীর্ণ হয়ে পড়লেও দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না করার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

গতকাল চট্টগ্রাম থেকে ঘুরতে আসা আজম উল্লাহ জানান, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও বোট পাইনি। চালকরা কথা বলতে চাচ্ছে না। পরে বোট রিজার্ভ করে আসতে হয়েছে। নজরদারি না থাকায় চালকরা যেমন খুশি তেমন যাত্রীদের সঙ্গে ব্যবহার করছে।

যাত্রীরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ পথটি সচল রাখতে খাল খননের উদ্যোগ নেয়নি ঘাট পরিচালনা কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিরা। এখন জোয়ারের জন্য যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে খালটি খননের উদ্যোগ নিয়ে অন্তত বোট চলাচলের উপযোগী করা দরকার ছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টোলের তালিকা দেয়ার কথা থাকলেও ঘাটে তা প্রদর্শন করা হয় না। এ সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়ছি টোল আদায় করা হয়।

গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর এক শিক্ষার্থী নৌ দুর্ঘটনায় নিহত হন। তারপরও বোটে থাকে না লাইফ জ্যাকেট। চালকদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাইফ জ্যাকেট দেয়া হলে তা ব্যবহার করা হয় না। তাই আবার দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আরও জানা গেছে, চালকদের পরিচিতরা তাড়াতাড়ি বোট পান, না হয় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। প্রতিবাদ করলে শিকার হন হয়রানির। টিকিট ব্যবস্থা না থাকায় এমন অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে। অনেক স্পিডবোট অনিবন্ধিত ও ফিটনেসবিহীন, যা অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অদক্ষ চালক দিয়ে চালানো হয়।

কবি জাহেদ সরওয়ার বলেন, চীনের দুঃখ হোয়াংহো হলে মহেশখালীর দুঃখ ঘাট। যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, চালকদের ইচ্ছামতো বোট চলে। হয়রানি থেকে দ্বীপবাসীর মুক্তির জন্য স্থায়ী সেতুর বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে কক্সবাজার ডিসি মামুনুর রশিদ শেয়ার বিজকে জানান, খালটি শিগগির ড্রেজিংয়ের জন্য আমরা বলেছি। টোলের তালিকা প্রদর্শন না করা এবং চালকদের লাইফ জ্যাকেট থাকার পরও যাত্রীদের দেয় না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপদ নৌ পারাপারের জন্য অভিযান পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে ঘাটের এমন অনিয়ম বন্ধ করে নিরাপদে নদী পারাপার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।

সর্বশেষ..